লেটেস্ট নিউজ

গৃহবধূর শ্রম ‘অলসতা’ নয়, খোরপোশ মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাইকোর্টের

বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় উচ্চশিক্ষিত স্ত্রীদের ‘অলস’ তকমা দিয়ে খোরপোশ অস্বীকার করার প্রবণতায় কড়া অবস্থান নিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি স্বরণকান্ত শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংসার সামলানো বা সন্তান পালন করা কোনো কুঁড়েমি নয়। ঘরের কাজের কোনো আর্থিক নথি না থাকলেও, স্বামীর উপার্জনের নেপথ্যে স্ত্রীর এই ‘অদৃশ্য শ্রম’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত মনে করে, গৃহবধূরা পরিবারের জন্য নিজেদের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে অমূল্য অবদান রাখেন।

২০১২ সালে বিবাহিত এক দম্পতির মামলায় নিম্ন আদালত মহিলার খোরপোশের আবেদন নাকচ করেছিল। যুক্তি ছিল, স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত ও সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কাজ করছেন না। তবে হাইকোর্ট এই যুক্তি খণ্ডন করে জানায়, ‘উপার্জন করার ক্ষমতা’ আর ‘প্রকৃত উপার্জন’ এক নয়। দীর্ঘ বিরতির পর একজন মহিলার পক্ষে পুনরায় একই পদমর্যাদায় পেশায় ফেরা কঠিন। শিক্ষিত হওয়ার অজুহাতে কোনো নারীকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, খোরপোশ সংক্রান্ত লড়াই এখন পারস্পরিক শত্রুতার রূপ নিয়েছে। যেখানে স্বামীরা আয় গোপন করেন এবং স্ত্রীরা খরচ বাড়িয়ে বলেন। এই পরিস্থিতিতে আইনি লড়াইয়ের চেয়ে মধ্যস্থতার ওপর জোর দিয়েছে আদালত। শেষ পর্যন্ত মহিলার বর্তমান উপার্জনের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায়, আদালত তাঁকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই রায় ঘরোয়া শ্রমের সামাজিক ও আর্থিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *