গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে দুর্নীতি রুখতে কড়া নবান্ন! জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ মুখ্যসচিবের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বা ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। পূর্ববর্তী সময়ে এই প্রকল্পে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এবার নবান্নের তরফে জেলাশাসকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ‘মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম’ বা পরিবর্তিত নাম অনুযায়ী ভিবিরামজি প্রকল্পের বাস্তবায়নে আর্থিক নির্দেশিকা ও কেন্দ্রীয় আইন কঠোরভাবে মেনে চলার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।
দুর্নীতি রোধে কড়া নজরদারি ও তথ্য যাচাই
ভুল পরিকল্পনা, নজরদারির অভাব, তথ্যের আসাম্পূর্ণতা এবং বেনিয়মের মতো অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রশাসনকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকরা পান, তা নিশ্চিত করতে কাজ শুরুর আগেই রাজ্যের ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারীর তথ্যভাণ্ডার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। অযোগ্য ব্যক্তিরা যাতে তালিকায় জায়গা না পায়, তার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে ই-কেওয়াইসি যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি, মজুরি প্রদানে আধার-ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম (এবিপিএস) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কাজের প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
স্থায়ী সম্পদ তৈরি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ এলাকায় উৎপাদনশীল এবং স্থিতিশীল সামাজিক সম্পদ তৈরি করা। এর অধীনে জল সংরক্ষণ, খরা প্রতিরোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সেচ ব্যবস্থার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি অর্থের বিন্দুমাত্র অপচয় রোধ করতে জেলাশাসকদের সরাসরি দায়বদ্ধ করা হয়েছে এবং নিয়মের গাফিলতি প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে দুর্নীতি কমে স্বচ্ছতা ফিরবে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃত শ্রমিকরা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
