ঘন ঘন ভূমিকম্পে কাঁপছে উত্তরবঙ্গ, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দার্জিলিং ও কালিম্পং – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভুটান ও সিকিমের পর এবার ফিলিপিন্স, একের পর এক ভূমিকম্পের জেরে তীব্র আতঙ্ক গ্রাস করেছে দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গকে। সম্প্রতি রবিবার রাতে ভুটানে ৫.৭ মাত্রার কম্পন এবং সোমবার সকালে ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেশ এসে পড়েছে ভারতের এই পার্বত্য অঞ্চলে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সিকিমে এক রাতে ১২ বার ভূমিকম্পের ধাক্কা লেগেছিল উত্তরবঙ্গে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি এবং ইউনাইটেড স্টেট জিওলজিকাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দার্জিলিং-কালিম্পং পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় চারশোর বেশি ভূমিকম্প হয়েছে। প্রতি বছর গড়ে ৪৩ বার এবং মাসে অন্তত ৩ বার এই অঞ্চলের মাটি কাঁপছে, যা এক বড়সড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্লেটের সরণ ও ধসের জোড়া ফলা
ভূ-গবেষকদের মতে, ভারতীয় প্লেট ক্রমাগত ইউরেশিয়ান প্লেটের নীচে চলে যাওয়ার কারণেই এই অঞ্চলে ঘন ঘন ছোট-বড় কম্পন অনুভূত হচ্ছে। দার্জিলিং পাহাড়ে প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ বছর অন্তর বিধ্বংসী ভূমিকম্পের একটি ঐতিহাসিক চক্র রয়েছে। এর আগে ১৯০৪ সালে এখানে ৮ মাত্রার এবং গত বছর ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। ২০১৫ সালে প্রতিবেশী নেপালের ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলেছিল। ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস) সতর্ক করেছে যে, দার্জিলিং পাহাড়েও নেপালের চেয়ে তীব্র ভূমিকম্পের ইতিহাস ও সম্ভাবনা দুই-ই রয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে এই ভূমিকম্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছে মারাত্মক ভূমিধস, যা আশির দশকের পর থেকে প্রায় বাৎসরিক বিপর্যয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
অপরিকল্পিত নির্মাণ ও ডোমিনো প্রভাবের শঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিখটার স্কেলে ৬-এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে কেবল পাহাড় নয়, সমতলের শিলিগুড়ি বা জলপাইগুড়ির মতো শহরগুলোও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এর মূল কারণ সমতল ও পাহাড়ে গড়ে ওঠা লাগামহীন বহুতল এবং অপরিকল্পিত নির্মাণ। বড় কোনো কম্পন হলে এই ঘিঞ্জি বহুতলগুলো একটির ওপর অন্যটি ভেঙে পড়ে ‘ডোমিনো প্রভাব’ তৈরি করতে পারে। ফলে আগামীদিনে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার কোনো ভূমিকম্প হলে উত্তরবঙ্গে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
