ঘর থেকে টিকটিকি তাড়িয়ে দিয়ে কি নিজের বিপদ ডেকে আনছেন আপনি! জেনে নিন আসল কারণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাড়ির দেয়ালে টিকটিকি দেখলেই আঁতকে ওঠা বা বিতৃষ্ণায় মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আমাদের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শহর অঞ্চলে যেখানে মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেশি, সেখানে টিকটিকির উপস্থিতি প্রায় প্রতিটি ঘরেই লক্ষ্য করা যায়। তবে যাকে আমরা অপ্রয়োজনীয় বা বিরক্তিকর প্রাণী ভেবে ঘর থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করি, সেই টিকটিকিই আসলে নিঃশব্দে আমাদের স্বাস্থ্যের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রাকৃতিক পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাড়িতে মশা, মাছি এবং তেলাপোকার মতো রোগবাহী পোকামাকড় দমনে টিকটিকি এক অনন্য ভূমিকা পালন করে। রাতের বেলা আলোর নিচে জমা হওয়া ক্ষতিকর পতঙ্গ শিকার করাই এদের প্রধান কাজ। যদি কোনো কারণে ঘর থেকে টিকটিকি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে পুরো বাড়ি পোকামাকড়ে ভরে উঠবে। এর ফলে বাসিন্দারা অতি সহজেই বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হবেন। গবেষকদের মতে, টিকটিকি না থাকলে পোকামাকড় মারতে আমাদের অতিরিক্ত রাসায়নিক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করতে হতো, যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের ফুসফুস ও শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে।
বিষাক্ত হওয়ার ভ্রান্ত ধারণা সাধারণত লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, টিকটিকি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং এদের ছোঁয়া খাবার খেলে মৃত্যু হতে পারে। তবে আধুনিক বিজ্ঞান এই ধারণাকে নাকচ করে দিয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, টিকটিকির শরীরে সাধারণ কিছু ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে যা বড়জোর ‘ফুড পয়জনিং’ ঘটাতে সক্ষম, কিন্তু তা মানুষের প্রাণনাশের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং এরা লাজুক প্রকৃতির এবং মানুষকে এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করে। খাদ্যশৃঙ্খলের এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যটি কোনো রাসায়নিক খরচ ছাড়াই বিনামূল্যে আমাদের ঘর পরিষ্কার রাখে।
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি জীবের নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। টিকটিকি আমাদের অজান্তেই মশা ও পোকামাকড় খেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরকে জীবাণুমুক্ত রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ থেকে এই সরীসৃপটি হারিয়ে গেলে মানবজাতিকে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। তাই ঘরের কোণে থাকা এই ছোট প্রাণীটিকে শত্রু নয়, বরং বন্ধু হিসেবে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এক ঝলকে
- টিকটিকি ঘর থেকে ক্ষতিকর মশা, মাছি ও তেলাপোকা খেয়ে আমাদের প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়।
- টিকটিকি মারাত্মক বিষাক্ত নয় এবং এদের কারণে মানুষের মৃত্যুর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
- টিকটিকি না থাকলে ঘরবাড়িতে পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়বে এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে।
- বাস্তুসংস্থান ও প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখতে টিকটিকির উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
