ঘাসফুল হাতছাড়া হলে মমতার নতুন ‘ফুল’? কমিশনে টানাপোড়েনের মাঝেই কালীঘাটে রেডি ‘প্ল্যান B’! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন স্পষ্ট। একদিকে মমতার নেতৃত্বে কালীঘাট শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রতের চালনায় নতুন তৃণমূল— দুই পক্ষেরই দাবি, তারা-ই ‘আসল তৃণমূল’। এই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় কেন্দ্রবিন্দু এখন দলীয় প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’। জল গড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে কমিশনকে চিঠি দিয়ে বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। কালীঘাট শিবিরের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন। কিন্তু দুই-দু’বার ডেডলাইন পার হলেও ঋতব্রত শিবির কোনো নথি জমা দিতে পারেনি।
কী হতে পারে মমতার ‘প্ল্যান B’? আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সবরকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি কালীঘাট। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, কমিশন যদি কোনো কারণে ‘জোড়াফুল’ চিহ্ন অন্য শিবিরের হাতে তুলে দেয় বা স্থগিত করে, তাহলেও লড়াই থামাবেন না মমতা। সে ক্ষেত্রে কোনো নতুন ফুল প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়ে ভোটের ময়দানে নামার পরিকল্পনা সেরে রেখেছেন তিনি।
তবে এর পাশাপাশি ‘প্ল্যান A’ অর্থাৎ আইনি লড়াইও সমান্তরালভাবে চলবে। প্রতীক অন্য শিবির পেলে আদালতে যাবে কালীঘাট তৃণমূল, যা বিদ্রোহী বিধায়কদের আইনি সংকটে ফেলতে পারে।
আইন কী বলছে ও দলের প্রতিক্রিয়া: নিয়ম অনুযায়ী, যেসব শিবিরের দিকে দলের অধিকাংশ বিধায়ক, সাংসদ এবং সাংগঠনিক সমর্থন থাকবে, তারাই প্রতীক পাওয়ার দিক থেকে এগিয়ে থাকবে। গত ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, “মানুষ যে প্রতীক বেছে নেবে, সেটাই হবে আসল প্রতীক।”
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়াফুল প্রতীককে সাধারণ মানুষের দরবারে তিনিই পৌঁছে দিয়েছেন। মমতা নিজেই একটা ব্র্যান্ড, সেখানে প্রতীক কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।”
