চতুর্থ বছরে পা রাখল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, থামার নাম নেই ধ্বংসলীলার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক: তিন বছর পেরিয়ে চতুর্থ বছরে পদার্পণ করল রাশিয়া-ইউক্রেন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে সামরিক অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন, তা আজও অমীমাংসিত। মঙ্গলবার এই যুদ্ধের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল ক্ষত ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভয়াবহ প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়
গত তিন বছরে এই যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শিউরে ওঠার মতো। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, উক্রেইনের ১৫ হাজারেরও বেশি সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৪১ হাজার মানুষ। যুদ্ধের সবচেয়ে করুণ শিকার হয়েছে শিশুরা। পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত ৬৬০ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রতি তিনজন শিশুর মধ্যে একজন ভিটেমাটিহীন হয়ে পড়েছে। সামরিক ক্ষয়ক্ষতির হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দাবি, রাশিয়ার প্রায় ৩.২৫ লক্ষ এবং ইউক্রেনের প্রায় ১.৪০ লক্ষ সৈন্য এই লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি ও দখলি লড়াই
যুদ্ধের শুরুতে রাশিয়া দ্রুত ইউক্রেন দখলের পরিকল্পনা করলেও, ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে তা দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে রূপ নেয়। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন এবং রাশিয়ার মূল লক্ষ্য সফল হতে দেননি।
শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা
যুদ্ধ চলাকালীন আমেরিকা ইউক্রেনকে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২৩০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করেছে। বর্তমানে আমেরিকার মধ্যস্থতায় জেনেভায় শান্তি আলোচনা চললেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান সূত্র মেলেনি। রাশিয়ার দাবি, ডনবাস অঞ্চলসহ দখলকৃত এলাকাগুলো তাদের হাতেই থাকবে এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ চাই। অন্যদিকে, ইউক্রেন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে নিজেদের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও তারা ছেড়ে দেবে না। ফলে চতুর্থ বছরে পা দিয়েও এই যুদ্ধ কবে থামবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।

