চতুর্থ মন্ত্রীর ইস্তফায় টালমাটাল স্টারমার সরকার, বিদ্রোহ সামাল দিতে অনড় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

চতুর্থ মন্ত্রীর ইস্তফায় টালমাটাল স্টারমার সরকার, বিদ্রোহ সামাল দিতে অনড় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটেনের রাজনীতিতে ঘনীভূত হচ্ছে চরম অস্থিরতা। গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের মন্ত্রিসভায় ভাঙন শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সরকারি মন্ত্রী জুবাইর আহমেদের পদত্যাগের ফলে সব মিলিয়ে মোট চারজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে সরে দাঁড়ালেন। এর আগে মঙ্গলবার প্রথম ইস্তফা দেন স্থানীয় সরকার ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী মাইতা ফাহনবুল্লেহ। মন্ত্রীদের এই পদত্যাগ এবং দলের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর গদি টালমাটাল করে দিলেও, এখনই পদ ছাড়তে নারাজ কিয়ের স্টারমার।

দলের অন্দরে বিদ্রোহ ও নেতৃত্বের সংকট

প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের বিরুদ্ধে লেবার পার্টির অন্তত ৮৬ জন এমপি প্রকাশ্যে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। এঁদের মধ্যে ৭০ জন সদস্য সরাসরি তাঁর পদত্যাগ দাবি করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বর্তমান সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। মাইতা ফাহনবুল্লেহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্টারমার সরকার প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বিদ্রোহীরা মনে করছেন, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে দলীয় ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে নেতৃত্ব পরিবর্তন জরুরি। ইতিমধ্যে নতুন নেতা হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সংকট সামাল দিতে স্টারমারের পাল্টা কৌশল

তীব্র চাপের মুখেও প্রধানমন্ত্রী স্টারমার দাবি করেছেন যে, এই মুহূর্তে তাঁর পদত্যাগ দল ও দেশের জন্য আরও বড় বিশৃঙ্খলা ডেকে আনবে। মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রিসভা ও দলের বৈঠকে নিজের স্বপক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেন, দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মেরামতের জন্য তাঁকে আরও কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী ২০ শতাংশ এমপি সরকারিভাবে অনাস্থা জানালে নেতৃত্বের পরিবর্তন অনিবার্য হলেও, বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে এখনো তেমন কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আপাতত রাজা তৃতীয় চার্লসের অনুমতি নিয়ে অন্তর্বর্তী নির্বাচনের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন স্টারমার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *