চন্দ্রগ্রহণে কেন ঘর থেকে বেরোতে নেই অন্তঃসত্ত্বাদের জেনে নিন সূতক কালের সময় ও সতর্কবার্তা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে দেশজুড়ে তুঙ্গে চর্চা। জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহলের শেষ নেই। তবে কেবল মহাজাগতিক বিস্ময় নয়, ভারতীয় সংস্কৃতি ও জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহণের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সময়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু কেন বছরের পর বছর ধরে গ্রহণ চলাকালীন হবু মায়েদের ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়? এর পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তিই বা কী আর শাস্ত্রীয় মতই বা কী বলছে?
কেন গর্ভবতীদের জন্য গ্রহণ বিপজ্জনক?
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, চন্দ্রগ্রহণের সময় রাহু এবং কেতুর অশুভ প্রভাব তুঙ্গে থাকে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ছায়া গ্রহ দুটি যখন চাঁদকে গ্রাস করে, তখন নেতিবাচক শক্তির বিকিরণ ঘটে। গর্ভবতী মহিলারা যদি এই সময় সরাসরি চন্দ্রালোকের সংস্পর্শে আসেন বা বাড়ির বাইরে বেরোন, তবে সেই অশুভ প্রভাব গর্ভস্থ শিশুর ওপর পড়তে পারে। এর ফলে শিশুর শারীরিক গঠন বা মানসিক বিকাশে বাধার সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হয়।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি
ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানও গ্রহণের সময় কিছু নির্দিষ্ট সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহণের সময় বায়ুমণ্ডলে কিছু ক্ষতিকারক রশ্মি এবং তরঙ্গ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই তেজস্ক্রিয় বিকিরণ সাধারণ মানুষের তুলনায় গর্ভস্থ ভ্রূণের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সরাসরি এই রশ্মির সংস্পর্শে এলে ত্বকের সমস্যা বা চোখের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সাবধানতা বশতই বাড়ির ভেতরে জানলা-দরজা বন্ধ করে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সূতক কাল ও গ্রহণের সময়সূচি
আসন্ন ৩ মার্চ, মঙ্গলবার বছরের গুরুত্বপূর্ণ চন্দ্রগ্রহণটি ঘটবে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী গ্রহণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- গ্রহণ শুরু: দুপুর ০৩:২৩ মিনিটে।
- গ্রহণ সমাপ্তি: সন্ধ্যা ০৬:৪৭ মিনিটে।
- সূতক কাল শুরু: সকাল ০৯:০৬ মিনিট থেকে।
- সূতক কাল সমাপ্তি: সন্ধ্যা ০৬:৪৭ মিনিটে।
শাস্ত্র মতে, চন্দ্রগ্রহণের ৯ ঘণ্টা আগে থেকে সূতক কাল শুরু হয়। এই সময়টিকে অশুভ বলে মনে করা হয় এবং সমস্ত ধরণের শুভ কাজ বা দেব-দেবীর আরাধনা এই সময়ে নিষিদ্ধ থাকে।
অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা
বিশেষজ্ঞ ও জ্যোতিষবিদরা এই সময়কালে কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন:
- ঘরের ভেতরে থাকা: সূতক কাল থেকে শুরু করে গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ির বাইরে পা না রাখা।
- মানসিক প্রশান্তি: গ্রহণের সময় নেতিবাচক চিন্তা এড়িয়ে ঈশ্বরের নাম জপ করা বা শান্ত থাকা উচিত।
- খাদ্য গ্রহণ: প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী, গ্রহণের সময় রান্না করা বা খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে অসুস্থ বা গর্ভবতী মহিলারা হালকা খাবার খেতে পারেন, যদি তাতে তুলসী পাতা মেশানো থাকে।
- দৃষ্টি এড়িয়ে চলা: খালি চোখে বা সরাসরি আকাশের দিকে তাকানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বাড়ির জানলা ভারী পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখা ভালো যাতে চাঁদের আলো ভেতরে প্রবেশ না করে।
সতর্কীকরণ: উপরে উল্লিখিত তথ্যসমূহ প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকমতের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ নয়। গর্ভাবস্থায় যেকোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি।

