লেটেস্ট নিউজ

চন্দ্রগ্রহণের আগে কেন সংগ্রহ করবেন কুশা ঘাস? জেনে নিন শাস্ত্রীয় রহস্য ও অলৌকিক মহিমা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আসন্ন ৩ মার্চ বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ। এই গ্রহণকে কেন্দ্র করে হিন্দু শাস্ত্রে একাধিক নিয়ম পালনের বিধান রয়েছে। তবে সবকিছুর মধ্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো ‘কুশা’ বা দূর্বা ঘাস। সাধারণ দৃষ্টিতে এটি একটি ঘাস মনে হলেও, সনাতন ধর্মে এর স্থান অত্যন্ত উঁচুতে। বিশেষ করে গ্রহণ থেকে শুরু করে শ্রাদ্ধ বা যেকোনো মাঙ্গলিক কাজে কুশা ছাড়া তর্পণ বা পূজা আসাম্পূর্ণ থেকে যায়।

কেন শাস্ত্রীয় বিধানে কুশা ঘাস এত অপরিহার্য?

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, কুশা ঘাসের উৎপত্তি স্বয়ং ব্রহ্মা বা ভগবান বিষ্ণুর রোম থেকে। গরুড় পুরাণ এবং স্কন্দ পুরাণে এই দিব্য ঘাসের মহিমা বর্ণিত হয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় যখন অমৃতের কয়েক ফোঁটা পৃথিবীতে পড়েছিল, সেই স্থান থেকেই কুশা ঘাসের জন্ম। তাই একে অমৃততুল্য এবং পরম পবিত্র মনে করা হয়।

গ্রহণের সময় কেন খাদ্যদ্রব্যে কুশা রাখা হয়?

শাস্ত্র মতে, গ্রহণ চলাকালীন পরিবেশে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বেড়ে যায়। এই অশুভ প্রভাব থেকে রান্না করা খাবার বা জলকে মুক্ত রাখতে তাতে কুশা ঘাস দিয়ে রাখা হয়। মনে করা হয়, কুশা ঘাস তেজস্ক্রিয়তা বা নেতিবাচক শক্তি শোষণ করে খাবারকে দূষিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এমনকি আধুনিক আয়ুর্বেদ শাস্ত্রও এই ঘাসের জীবাণুনাশক গুণের কথা স্বীকার করে।

পূজা ও শ্রাদ্ধে কুশার ভূমিকা

  • কুশাসন: জপ বা তপস্যার সময় ঋষি-মুনিরা কুশার তৈরি আসনে বসতেন। এতে একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের শক্তি সংরক্ষিত থাকে।
  • পবিত্রী: শ্রাদ্ধ বা তর্পণের সময় অনামিকা আঙুলে কুশার তৈরি আংটি বা ‘পবিত্রী’ ধারণ করা বাধ্যতামূলক। মনে করা হয়, এর মাধ্যমে তর্পণ সরাসরি পিতৃপুরুষদের কাছে পৌঁছায়।
  • সংকল্প: যেকোনো যজ্ঞ বা পূজার শুরুতে হাতে কুশা নিয়ে সংকল্প করা হয়, যা ওই কর্মের শুদ্ধতা নিশ্চিত করে।

পবিত্রতা, স্থিরতা এবং দৈব উপস্থিতির প্রতীক এই কুশা ঘাস। তাই এবারের চন্দ্রগ্রহণের আগে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে ঘরে কুশা সংগ্রহ করে রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *