চব্বিশ ঘণ্টায় জোড়া কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সির জেরা, ভবানীভবনে সিআইডি জেরার মুখে অভিষেক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) টানা ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ভিন্ন মামলায় দুই হেভিওয়েট এজেন্সির এই জোড়া হাজিরা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পূর্বনির্ধারিত সময় মেনে মঙ্গলবার দুপুর ঠিক ১২টা নাগাদ কলকাতার ভবানীভবনে সিআইডি দফতরে পৌঁছান ডায়মন্ড হারবারের এই তৃণমূল সাংসদ।
তদন্তে বিশেষ টিম ও ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি
সম্প্রতি শেষ হওয়া ছাব্বিশের (২০২৬) বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এই তলব করা হয়েছে। সিআইডি সূত্রে খবর, এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে ইতিমধ্যেই অভিজ্ঞ আধিকারিকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রশ্নমালা। ভবানীভবনের একাধিক উচ্চপদস্থ অফিসারের যৌথ সওয়ালের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এই তৃণমূল নেতাকে। এর আগে গত শুক্রবার অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে ১৬ জুন হাজিরার সমন নোটিস ধরিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা। সেই আইনি নোটিসে সাড়া দিয়েই আজ ভবানীভবনে হাজিরা দেন তিনি।
মামলার প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রভাব
নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেকের একটি নির্দিষ্ট ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত। দায়ের হওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূলের শীর্ষ সেনাপতির তৎকালীন বাচনভঙ্গি, শরীরী ভাষা এবং শব্দচয়ন ছিল চরম উস্কানিমূলক, যা বিরোধী কর্মীদের প্রতি সরাসরি হুমকির শামিল। নির্বাচনী মরশুমে এই বক্তব্যের জেরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ ওঠার পরই তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সম্পত্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ, আর অন্যদিকে উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে রাজ্য পুলিশের সিআইডি শাখার এই সক্রিয়তা— দুইয়ে মিলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। এই জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।
