চরম সংকটে তৃণমূল! দিল্লি ও কলকাতায় সাঁড়াশি চাপে দিশেহারা মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের মে মাসের শুরু থেকেই এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শীর্ষ নেতারা জেলায় জেলায় জনরোষ ও ‘ডিম হামলার’ শিকার হওয়ার পাশাপাশি দলের অন্দরেও চরম ভাঙন দেখা দিয়েছে। সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভা—উভয় ক্ষেত্রেই দলের একাংশ বিদ্রোহী হওয়ায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত সাঁড়াশি চাপের মুখে পড়েছেন।
দিল্লি ও কলকাতায় জোড়া বিদ্রোহ
জাতীয় স্তরে তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ একটি পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করে এনসিপি-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে এনসিপি-র রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির সভাপতি ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য রাজনীতিতেও বড়সড় ফাটল ধরেছে। কলকাতায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক বিদ্রোহী দলে নাম লিখিয়েছেন এবং বিধানসভার স্পিকার তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে এবং ব্লক স্তরেও এই ভাঙন ছড়াবে বলে তাদের অভিমত।
মমতার আইনি লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ব্যাপক দলত্যাগের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জোড়া আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে হবে। দিল্লিতে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে দলত্যাগ বিরোধী আইনে অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত, আর কলকাতায় তাঁকে নিজের গোষ্ঠীকে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই টানাপোড়েনের চূড়ান্ত প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচন কমিশনে, যার জেরে দলের বর্তমান নির্বাচনী প্রতীকটি বাজেয়াপ্ত হয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আলাদা প্রতীক বণ্টিত হতে পারে।
