লেটেস্ট নিউজ

চাঁদে বিলাসবহুল হোটেল! বুকিং শুরু হতেই বিশ্বজুড়ে হইচই, খরচ জানলে চমকে যাবেন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মহাকাশ বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য অগ্রগতিতে এবার কল্পবিজ্ঞান ধরা দিচ্ছে বাস্তবে। এতদিন চাঁদ নিয়ে মানুষের মনে যে রোমাঞ্চ ছিল, তাকেই বাণিজ্যিক রূপ দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে মার্কিন স্টার্টআপ কো ম্পা নি ‘গ্যালাক্সি রিসোর্স ইউটিলাইজেশন স্পেস’ (GRU Space)। ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক এই সংস্থাটি চাঁদের মাটিতে প্রথম আবাসিক হোটেল নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

মহাকাশ পর্যটনে বিপ্লব: কেবল ঘোরাঘুরি নয়, রাত কাটানোও সম্ভব

সিলিকন ভ্যালির এই সংস্থাটি মনে করছে, চন্দ্র অর্থনীতি (Lunar Economy) গড়ে তোলার পথে এটিই হবে প্রথম এবং প্রধান পদক্ষেপ। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি কেবল পর্যটকদের জন্য একটি অস্থায়ী আস্তানা হবে না, বরং ভবিষ্যতের মানব সভ্যতার এক বিকল্প বাসভূমি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। হোটেলের ওয়েবসাইট ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে এবং সেখানে বুকিং প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

খরচের খতিয়ান ও বুকিং প্রক্রিয়া

চাঁদে থাকার এই অভিজ্ঞতা মোটেও সস্তা নয়। বুকিংয়ের জন্য আবেদনকারীর পকেট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে:

  • বুকিং মূল্য: ২.২ কোটি টাকা থেকে শুরু করে ৯ কোটি টাকা পর্যন্ত (বিলাসবহুলতার নিরিখে)।
  • মোট ভ্রমণ খরচ: কো ম্পা নিটি ধারণা করছে, পৃথিবী থেকে চাঁদ ভ্রমণ এবং সেখানে থাকার সম্পূর্ণ খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯০ কোটি টাকারও বেশি।
  • আবেদন ফি: যারা এই রোমাঞ্চকর অভিযানের জন্য নাম নথিভুক্ত করতে চান, তাদের ১,০০০ ডলার (অ-ফেরতযোগ্য) ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে।

ইট নয়, চাঁদের ধুলো দিয়েই তৈরি হবে আবাসন

পৃথিবী থেকে ইট বা সিমেন্ট নিয়ে গিয়ে চাঁদে হোটেল বানানো প্রায় আসাম্ভব। তাই জিআরইউ স্পেস এক অভিনব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তারা চাঁদের মাটির বিশেষ ধুলো বা ‘রেগোলিথ’ সংগ্রহ করে তা উচ্চ-প্রযুক্তির মাধ্যমে ইটে রূপান্তরিত করবে। এই বিশেষ ইটগুলি মহাকাশের ক্ষতিকর বিকিরণ এবং চাঁদের চরম তাপমাত্রা (অত্যধিক গরম বা হিমাঙ্কের নিচে ঠান্ডা) সহ্য করার ক্ষমতা রাখবে। ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কারিগরি সরঞ্জাম চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুধু টাকা থাকলেই হবে না, মানতে হবে কঠোর নিয়ম

টাকা থাকলেই যে কেউ চাঁদের হোটেলে রাত কাটাতে পারবেন, এমনটা নয়। আবেদনকারীদের জন্য থাকছে বেশ কিছু কঠিন শর্ত:

  • শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস: যাত্রীদের দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার মতো শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তা থাকতে হবে।
  • ব্যাকগ্রাউন্ড চেক: আবেদনকারীর ব্যক্তিগত এবং পেশাগত রেকর্ড কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।
  • প্রশিক্ষণ: মহাকাশ যাত্রার আগে নির্ধারিত বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

বিশাখাপত্তনম উৎসবের মতো যেখানে মাত্র ৯ দিনে ৫০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হচ্ছে, সেখানে মহাকাশ পর্যটন আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনীতিতে কত বড় ভূমিকা নেবে, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। জিআরইউ স্পেস-এর মতে, এটি কেবল আমোদ-প্রমোদ নয়, বরং পৃথিবীর বাইরে মানুষের স্থায়ী বসতি স্থাপনের এক বৈজ্ঞানিক মাইলফলক হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *