চাকরি ছাড়লে ২ দিনেই মিলবে সব বকেয়া টাকা, সরকারি নিয়মে বড় স্বস্তি কর্মীদের

দেশের শ্রম আইনে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে কর্মচারীদের জন্য এক বিশেষ সুখবর আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী চাকরি ছাড়লে বা তাঁকে বরখাস্ত করা হলে, মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে তাঁর সমস্ত বকেয়া পাওনা (Full and Final Settlement) মিটিয়ে দিতে হবে কো ম্পা নিকে। আগে এই বকেয়া অর্থ বুঝে পেতে কর্মীদের প্রায় ৩০ থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, যা এখন অতীত হতে চলেছে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন ব্যবস্থার ফলে কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে।
মজুরি আইন ২০১৯-এর অধীনে বাস্তবায়িত এই নিয়মে বলা হয়েছে, পদত্যাগ, বরখাস্ত বা কো ম্পা নি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে দুই কর্মদিবসের মধ্যেই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক। পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির এই প্রক্রিয়ার মধ্যে কেবল শেষ মাসের বেতনই নয়, বরং অর্জিত ছুটির টাকা, বোনাস বা ইনসেনটিভ এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত বকেয়া খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে বাড়ি ভাড়া বা দৈনন্দিন খরচ মেটানোর ক্ষেত্রে কর্মীদের যে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকতে হতো, তার অবসান ঘটবে।
নতুন শ্রম আইনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি এসেছে গ্র্যাচুইটি প্রদানের ক্ষেত্রে। আগে কোনো সংস্থায় টানা পাঁচ বছর কাজ করলে তবেই গ্র্যাচুইটি পাওয়া যেত, কিন্তু এখন থেকে মাত্র এক বছর কাজ করলেই এই সুবিধা মিলবে। গ্র্যাচুইটির এই বকেয়া অর্থ প্রদানের জন্য কো ম্পা নিগুলো সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সময় পাবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে অন্যান্য পাওনা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
পেশাদারী এই পদক্ষেপে স্বচ্ছতা আনতে কো ম্পা নিগুলোকে এখন থেকে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। এর মধ্যে কর কর্তন, অগ্রিম বেতন বা লোনের সমন্বয় এবং অফিসের সম্পদ ফেরতের মতো বিষয়গুলোও যুক্ত থাকবে। সামগ্রিকভাবে এই আইনি পরিবর্তন বেসরকারি ও কর্পোরেট সেক্টরের কর্মীদের জন্য এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তাঁদের দীর্ঘদিনের বকেয়া সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা লাঘব করবে।
