চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিরাট সুখবর, সরকারি পদে আবেদনের বয়সসীমা বাড়াল রাজ্য সরকার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পরেই শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সরকারি চাকরিতে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হবে। নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে গত রবিবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই মর্মে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নতুন বয়সসীমা কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে যারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
কার্যকরের তারিখ ও নতুন বয়সসীমা
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নতুন নিয়মটি গত ১১ মে থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের ঠিক দুই দিন পর থেকেই এই বর্ধিত বয়সসীমা প্রযোজ্য হচ্ছে। ওই তারিখের পর থেকে হওয়া সমস্ত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই সংশোধিত নিয়ম অনুসরণ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর আগের ঘোষণা অনুযায়ী, চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা মোতাবেক বিভাজনটি নিচে দেওয়া হলো:
- গ্রুপ ‘A’ পদ: এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে ৪১ বছর করা হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট পদে যদি আগে থেকেই ৪১ বছরের বেশি বয়সসীমা কার্যকর থাকে, তবে সেই উচ্চতর সীমা অপরিবর্তিত থাকবে।
- গ্রুপ ‘B’ পদ: এই গ্রুপে নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪ বছর।
- গ্রুপ ‘C’ ও গ্রুপ ‘D’ পদ: এই দুই ক্যাটাগরির চাকরির পরীক্ষায় আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৪৫ বছর করা হয়েছে।
সিদ্ধান্তের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে রাজ্যে নিয়মিত ও বড় মাপের নিয়োগ না হওয়ার কারণে বহু যোগ্য যুবক-যুবতী পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। চাকরির প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বয়সের কোটা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে অনেকেই প্রতিযোগিতার বাইরে চলে যান। রাজ্য সরকারের এই বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে সেই সমস্ত প্রার্থীদের সামনে পুনরায় একটি বড় সুযোগ তৈরি হলো। এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী নতুন করে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন, যা রাজ্যের বেকারত্ব হ্রাসে এবং যোগ্য প্রার্থীদের সরকারি পরিষেবায় যুক্ত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
