চিনা নিয়ন্ত্রিত বন্দরের পাশেই এবার বিমানবন্দর ইজারা দিচ্ছে শ্রীলঙ্কা, ভারতের সামনে কি নতুন সুযোগ – এবেলা

চিনা নিয়ন্ত্রিত বন্দরের পাশেই এবার বিমানবন্দর ইজারা দিচ্ছে শ্রীলঙ্কা, ভারতের সামনে কি নতুন সুযোগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক দাবার বোর্ডে নতুন চাল দিল অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা। ২০১৭ সাল থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দরটি ৯৯ বছরের জন্য চিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এবার সেই বন্দরের ঠিক অদূরে অবস্থিত হাম্বানটোটা বিমানবন্দরটিও ৩০ বছরের জন্য ইজারা (লিজ) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলম্বো। আগামী ৯ জুনের মধ্যে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত মহাসাগরে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান মজবুত করতে ভারতের কোনো বাণিজ্যিক সংস্থা এই দৌড়ে নামবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

ব্যর্থতার ইতিহাস ও চিনা ঋণের ফাঁদ

২০১৩ সালে প্রায় ২০ কোটি ৯০ লক্ষ ডলার ব্যয়ে এই হাম্বানটোটা বিমানবন্দরটি নির্মাণ করেছিল শ্রীলঙ্কা সরকার। এই বিপুল খরচের সিংহভাগ অর্থই ঋণ হিসেবে দিয়েছিল চিনের ‘এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাঙ্ক’। তবে চালুর পর থেকেই বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিক সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয়। বিগত এক দশক ধরে এটি প্রায় অব্যবহৃত এবং লোকসানি প্রজেক্ট হিসেবেই পড়ে রয়েছে। বিপুল ঋণের বোঝা ও লোকসান কমাতে এবার এর নিয়ন্ত্রণভার সম্পূর্ণভাবে কোনো বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীর হাতে তুলে দিতে চাইছে শ্রীলঙ্কা।

সুরক্ষা উদ্বেগ ও ভারতের কৌশলগত সুযোগ

হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দরে চিনের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই নয়াদিল্লির চিন্তার কারণ। ২০২২ সাল থেকে চিনের ‘ইউয়ান ওয়াং-৫’ এবং ‘ডং ফাং হং–৩’ এর মতো বিতর্কিত জাহাজগুলো ভারত মহাসাগরে নজরদারি চালাচ্ছে এবং হাম্বানটোটা বন্দর থেকে জ্বালানি ও রসদ সংগ্রহ করছে। ভারতের আপত্তির তোয়াক্কা না করে চিনা ‘গুপ্তচর’ জাহাজের এই আনাগোনা ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এই পরিস্থিতিতে চিনা নিয়ন্ত্রিত বন্দরের ঠিক পাশেই বিমানবন্দরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগেও শ্রীলঙ্কার পূর্বতন সরকারের আমলে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে ‘শৌর্য অ্যারোনটিক্স প্রাইভেট লিমিটেড’ এই বিমানবন্দরটির ৩০ বছরের ইজারা পাওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় আকস্মিক সরকার পরিবর্তনের কারণে সেই চুক্তি আর বাস্তবায়িত হয়নি।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কলম্বো আবারও বিদেশি বিনিয়োগের দরজা খুলে দেওয়ায় ভারতের সামনে দ্বিতীয়বার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনো ভারতীয় সংস্থা যদি এই বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে ভারত মহাসাগরে চিনা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় কিছুটা হলেও লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। শেষ পর্যন্ত কোনো ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী এই ইজারার দৌড়ে অংশ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *