চিনের হাতেই আমেরিকার মূল চাবিকাঠি! শত্রু বদলে ট্রাম্পের ‘বন্ধু’ জিনপিং, কারণ কী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 21, 20267:40 am
নির্বাচনী প্রচার হোক কিংবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দফায় দায়িত্ব পালন—মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি ও কারখানা বন্ধ হওয়ার জন্য বরাবরই চিনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘আমেরিকা ফাস্ট’ নীতির তোপ দেগে চিনা পণ্যের ওপর একের পর এক কড়া শুল্ক চাপিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণ এনেছেন প্রযুক্তিতে। তবে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্পের সেই কঠোর অবস্থান এখন অনেকটাই নরম। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ট্রাম্প।
চিনের কাছে আমেরিকার যে ‘দুর্বলতা’
চিনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যে লাগাম টানতে ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নিলেও বাস্তব চিত্র কিন্তু বদলে যায়নি। চিন কেবল বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদক দেশই নয়, আধুনিক পৃথিবীর প্রযুক্তি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ‘রেয়ার আর্থ’ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে বেইজিং। স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি থেকে শুরু করে সামরিক প্রতিরক্ষার আধুনিক সরঞ্জাম—সবকিছুতেই এই খনিজ অপরিহার্য।
আমেরিকা চিনের ওপর চাপ তৈরি করতে গিয়ে বুঝতে পেরেছে, প্রযুক্তির এই মূল কাঁচামালের জন্য তাদের অনেকটাই বেইজিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হবে। ফলে কড়া অর্থনৈতিক লড়াই বা বাণিজ্য যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলেই গড়াচ্ছে।
শুল্ক অস্ত্রে কেন থামানো গেল না চিনকে?
ট্রাম্পের চিন-নীতির মূল অস্ত্র ছিল উচ্চ শুল্কহার। কিন্তু তাতে চিনের বিশ্বব্যাপী প্রভাব ধাক্কা খায়নি। ইলেকট্রিক যান, বিশ্বমানের ব্যাটারি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে চিন আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে। ফলে ওয়াশিংটন বুঝতে পেরেছে, শুধু শুল্ক বসিয়ে চিনের বিশাল শিল্প ক্ষমতা থামানো সম্ভব নয়। এই নতুন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাই ট্রাম্পকে জিনপিংয়ের সঙ্গে সমঝোতার টেবিলে এনে বসিয়েছে।
এআই ও খনিজ বাণিজ্য: ট্রাম্প-শি বৈঠকের মেগা এজেন্ডা
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য চুক্তিটি আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা চলছে। ট্রাম্প ও শি-র আসন্ন মেগা বৈঠকে ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজ সরবরাহ ও শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি বড় জায়গা করে নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিরাপত্তা।
ইতিমধ্যেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চিনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে ট্রাম্প-জিনপিং মূল শীর্ষ বৈঠকের সোপান। বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন ২৪ সেপ্টেম্বরের দিকে—যেখানে দুই পরাশক্তির শীর্ষ বৈঠক ঠিক করবে আগামী দিনে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথ।
