চিপ থেকে জাহাজ: মোদী-মিয়ুং বৈঠকে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ১৫টি চুক্তি স্বাক্ষর

ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সোমবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে মিউংয়ের মধ্যকার বৈঠকে দুই দেশ তাদের বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন ডলার হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণ করে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রযুক্তি ও শিল্পে নতুন অংশীদারিত্ব
এই ঐতিহাসিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ সহযোগিতার জন্য ‘ইন্ডিয়া-কোরিয়া ডিজিটাল ব্রিজ’ স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত সরবরাহ চেইন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসহ মোট ১৫টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান বাজারকে কাজে লাগিয়ে চিপ থেকে জাহাজ নির্মাণ—সর্বত্রই নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা
বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই মৈত্রী প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রগতির বার্তা দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া এখন ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভের সাথে যুক্ত হওয়ায় দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। এছাড়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় দেশ নতুন সংলাপ ব্যবস্থা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ২০২৮-২৯ সালকে ‘ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া মৈত্রী বর্ষ’ হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে।
এক ঝলকে
- ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির।
- প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের জন্য ‘ইন্ডিয়া-কোরিয়া ডিজিটাল ব্রিজ’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত।
- জাহাজ নির্মাণ, এআই এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সহ ১৫টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।
- ২০২৮-২৯ সালকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া মৈত্রী বর্ষ’ ঘোষণা।
