চিরঘুমের দেশে মোহনবাগানের ‘প্রাণপুরুষ’, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী টুটু বোসের মৃত্যুতে গভীর শোকাতুর মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার ক্রীড়া ও রাজনৈতিক জগতের এক নক্ষত্রের পতন ঘটল। দীর্ঘ অসুস্থতার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, প্রাক্তন সাংসদ তথা মোহনবাগান ক্লাবের দীর্ঘ সময়ের প্রধান কাণ্ডারি স্বপনসাধন বোস, যিনি ময়দানে ‘টুটু বোস’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার ক্রীড়া ও সামাজিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জীবনাবসান ও শেষ মুহূর্ত
বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভোগার পর গত সোমবার সন্ধ্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন টুটু বোস। প্রথম থেকেই তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল এবং একটি বিশেষ চিকিৎসক দল তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিল। হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, কল্যাণ চৌবে-সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তবে মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয়বার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে চিরবিদায় নেন এই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব।
মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তা ও রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
টুটু বোসের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লেখেন, “বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক ও প্রাক্তন সাংসদ স্বপনসাধন বোসের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।” মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই অভিজ্ঞ প্রশাসকের প্রয়াণে বিশেষ শোকবার্তা প্রদান করা হয়েছে।
ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রভাব ও অবিস্মরণীয় অবদান
টুটু বোসের প্রয়াণ ভারতীয় ফুটবল বিশেষ করে মোহনবাগান ক্লাবের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় তিন দশক ধরে তিনি ক্লাবের প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মোহনবাগানের কঠিন সময়ে অভিভাবকের মতো ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। প্রশাসক হিসেবে তাঁর দূরদর্শিতা ও দক্ষতার কারণেই ক্লাবটি বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমান উচ্চতায় পৌঁছাতে পেরেছে। ময়দানে ‘অজাতশত্রু’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তিত্বের বিদায়ে একটি যুগের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাঁর মৃত্যুতে ময়দান হারাল এক সুযোগ্য অভিভাবককে, যা আগামী দিনে ফুটবল প্রশাসনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করবে।
