চিরতরে বিদায় নিলেন ‘চৌরঙ্গী’র স্রষ্টা শংকর, না ফেরার দেশে সাহিত্যিক মণি শঙ্কর মুখোপাধ্যায় – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বাংলা সাহিত্যের এক স্বর্ণালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি সাহিত্যিক মণি শঙ্কর মুখোপাধ্যায়, পাঠকমহলে যিনি ‘শংকর’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। শুক্রবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে তাঁর প্রয়াণ হয়। ‘চৌরঙ্গী’, ‘সীমাবদ্ধ’ কিংবা ‘জনঅরণ্য’-এর মতো কালজয়ী উপন্যাসের স্রষ্টাকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ দুই বাংলার সাহিত্যপ্রেমীরা।
চিরঘুমের দেশে সাহিত্য সম্রাট
গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকেই গুরুতর সংক্রমণ এবং ব্রেন টিউমারের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তাঁর শরীরে থাবা বসিয়েছিল। শুক্রবার বিকেলে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অমৃতলোকের পথে পাড়ি দেন তিনি। তাঁর প্রয়াণের খবরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বন্ডেল রোডের বাসভবনে তাঁর নশ্বর দেহ নিয়ে আসা হলে অগণিত গুণমুগ্ধ পাঠক ও অনুরাগী তাঁদের প্রিয় লেখককে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শেষ ইচ্ছার মর্যাদা রক্ষা
ব্যক্তিগত জীবনে আড়ম্বরহীন শংকর মৃত্যুর আগে এক বিশেষ ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন। তাঁর দুই মেয়েই বিদেশে থাকেন। সাধারণত পরিজনরা বিদেশ থেকে না আসা পর্যন্ত মরদেহ হিমাগারে বা ‘কোল্ড স্টোরেজে’ সংরক্ষণ করে রাখার চল থাকলেও, শংকর এতে ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন যে, তাঁর মৃত্যুর পর যেন কোনোভাবেই তাঁর শরীরকে ‘ঠান্ডা ঘরে’ রাখা না হয়। প্রিয় লেখকের সেই শেষ ইচ্ছাকে পূর্ণ মর্যাদা দিচ্ছে পরিবার। কোনো কৃত্রিম সংরক্ষণে না গিয়েই আজ রাতেই কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য।
বাংলা সাহিত্যে এক অপূরণীয় শূন্যতা
পেশাগত জীবনে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে লেখক হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন মণি শঙ্কর মুখোপাধ্যায়। তাঁর কলমে ফুটে উঠেছিল মধ্যবিত্তের সংগ্রাম, কর্পোরেট জগতের জটিলতা এবং তৎকালীন কলকাতার জীবন্ত ছবি। সত্যজিৎ রায়ের মতো বিশ্বখ্যাত পরিচালক তাঁর কাহিনী অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। শংকরের প্রয়াণ কেবল একজন ব্যক্তির চলে যাওয়া নয়, বরং বাংলা গদ্যসাহিত্যের একটি আস্ত প্রতিষ্ঠানের বিদায়।

