লেটেস্ট নিউজ

‘চীন তোমাদের চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে!’ ট্রুডোর কানাডাকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ওয়াশিংটন: প্রতিবেশী দেশ কানাডার সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক সংঘাত এবার চরম শিখরে পৌঁছাল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় জাস্টিন ট্রুডো প্রশাসনকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, আমেরিকা যদি সুরক্ষার কবজ সরিয়ে নেয়, তবে চীন খুব শীঘ্রই কানাডাকে গ্রাস করবে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “চীন তোমাদের বাঁচতে দেবে না, ওরা তোমাদের চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে। এরপর সবটাই তোমাদের ব্যাপার।”

গোল্ডেন ডোম প্রকল্প ও গ্রিনল্যান্ড বিতর্ক

মূল বিবাদের সূত্রপাত গ্রিনল্যান্ড এবং প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা ছিল উত্তর আমেরিকার সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী গোল্ডেন ডোম গড়ে তোলা। কিন্তু কানাডা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আমেরিকার এই সুরক্ষা বলয় ছাড়া কানাডার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা আসাম্ভব। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকার নীতিতে কানাডার বাধা প্রদানকে তিনি ভালোভাবে গ্রহণ করেননি।

ড্রাগনের গ্রাসে কানাডা?

ট্রাম্পের অভিযোগ, কানাডা আমেরিকার বদলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত করতে বেশি আগ্রহী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি ওরা চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, তবে ড্রাগন রাষ্ট্র এক বছরের মধ্যে কানাডাকে সম্পূর্ণরূপে গিলে ফেলবে এবং মানচিত্র থেকে অস্তিত্বহীন করে তুলবে।” সম্প্রতি দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কানাডার কর্মকর্তাদের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

‘কানাডা আমাদের কাছে ঋণী’

প্রকাশ্য সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য কানাডার উচিত আমেরিকার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। তাঁর মতে, আমেরিকার কারণেই কানাডা আজও টিকে আছে। কিন্তু কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বদলে ট্রুডো সরকার চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক কমানোর মতো পদক্ষেপ নিতে চাইছে, যা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

এই বাকযুদ্ধ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এবং অটোয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *