ছুটির দিনে সুতির সরকারি অফিসে আচমকা আগুন, পুড়ে ছাই জরুরি নথি ও কম্পিউটার – এবেলা

ছুটির দিনে সুতির সরকারি অফিসে আচমকা আগুন, পুড়ে ছাই জরুরি নথি ও কম্পিউটার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শনিবার সাতসকালে বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি ২ নম্বর ব্লকের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর মতো ছুটির দিন হওয়ায় এদিন অফিস সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ফলে ভবনের ভেতরে কোনও কর্মী বা আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন না। সকাল নাগাদ আচমকাই এই সরকারি কার্যালয়ের ক্যাশ কাউন্টার সংলগ্ন অংশ থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই জানলার ফাঁক দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা স্পষ্ট নজরে আসে। ঘটনার খবর চাউর হতেই শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষ ও জমি-বাড়ির মালিকরা চরম উদ্বেগে রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এসে ভিড় জমান।

স্থানীয়দের তৎপরতায় রক্ষা পেল রেকর্ড রুম

অফিস বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢোকার উপায় ছিল না, তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সময় নষ্ট না করে স্থানীয় যুবকরাই প্রথমে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। বালতি বালতি জল এবং হাতের কাছে থাকা সরঞ্জাম দিয়ে তাঁরা আগুন নেভানোর মরিয়া চেষ্টা শুরু করেন। পরবর্তীতে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অন্তর্গত সুতি থানার পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের এই যুদ্ধকালীন তৎপরতা ও পুলিশের সহযোগিতার কারণেই আগুন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মূল রেকর্ড রুমে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তার আগেই আগুনকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, যার ফলে এক বিশাল বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এই সরকারি দফতরটি।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও তদন্তের অগ্রগতি

প্রাথমিক তদন্ত এবং ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান খতিয়ে দেখে প্রশাসন অনুমান করছে, ক্যাশ কাউন্টার সংবারের ভেতরের বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিটের জেরেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। আগুনের তীব্রতায় অফিসের একটি কম্পিউটার সেট সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ক্যাশ কাউন্টার ও তার আশেপাশে রাখা কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও সরকারি কাগজপত্র আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঠিক কী কী নথি পুড়েছে এবং সরকারি সম্পত্তির মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা এখনও খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা।

এই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এলাকার হাজার হাজার মানুষের জমি-বাড়ি সংক্রান্ত দলিল এবং বহু পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। তবে আশার কথা, যে ঘরে মূল রেকর্ড বা পুরোনো দলিল থাকে, সেখানে আগুন পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে সুতি থানার পুলিশ ও বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা যৌথভাবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি সরকারি এই অফিসে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *