“ছেঁটে ফেলা হোক মমতাকে!” ইস্তফা দিতে অস্বীকার করতেই চরম হুঁশিয়ারি হিমন্তের, নজিরবিহীন সংঘাত বাংলায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফলে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনায় রাজ্যে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নিয়ে এবং ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে অনড় থাকায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে জানিয়েছেন, মমতা নিজে সরে না দাঁড়ালে তাঁকে বরখাস্ত করাই এখন একমাত্র পথ।
সংবিধান বনাম ব্যক্তিগত অনড় অবস্থান
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, গেরুয়া শিবির জোর করে ইভিএম দখল করে ভোটে জিতেছে এবং তাঁর প্রার্থীরা প্রকৃতপক্ষে হারেননি। তবে সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। প্রবীণ আইনজীবী শেখর নাফাদে এবং পিডিটি আচার্যের মতে, বর্তমান সরকারের মেয়াদ ৬ মে শেষ হতে চলেছে। পাঁচ বছরের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার পর কোনো সরকারের ক্ষমতায় থাকার আইনি বৈধতা নেই। নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করার পর পরাজয় স্বীকার না করা কিংবা ইস্তফা না দেওয়া ভারতের সংবিধানের সরাসরি পরিপন্থী। বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা ব্যানার্জি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিয়ে সরকারকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হবেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
মমতা ব্যানার্জির এই অবস্থানের ফলে রাজ্যে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার আইনি পথ খোলা থাকলেও পদ আঁকড়ে থাকার এই সিদ্ধান্ত জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতো বিজেপি নেতাদের আক্রমণাত্মক মন্তব্য সংঘাতের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত রাজ্যপালকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়, তবে তা বাংলার সংসদীয় ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। আপাতত সবার নজর রাজভবনের দিকে, সেখান থেকেই নির্ধারিত হবে বাংলার পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ।
