‘জনগণনা না ভোটার তালিকা?’ পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে নিয়মভঙ্গের নালিশ, চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হলেই আইনি লড়াই – এবেলা

‘জনগণনা না ভোটার তালিকা?’ পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে নিয়মভঙ্গের নালিশ, চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হলেই আইনি লড়াই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: বছরের শেষেই কি বাজতে চলেছে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী বাদ্য? নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে সম্ভাব্য পুরভোট ঘিরে যখন সব দলের অলিন্দেই তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই আইনি জটিলতার বড়সড় মেঘ জমতে শুরু করেছে কলকাতা পুরনিগমকে কেন্দ্র করে। পুরসভার ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) এবং মহিলা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে এবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শাসকদল তৃণমূলের একাংশও।

সূত্রের খবর, প্রদেশ কংগ্রেস, সিপিআইএম এবং কালীঘাটের তৃণমূলের একাংশ—তিন শিবিরই পৃথকভাবে আইনি পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিম্যধেই আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলার প্রয়োজনীয় খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে।

যেসব ইস্যুতে বিতর্কের সূত্রপাত:

  • অনুরোধ উপেক্ষা ও সরেজমিন তদন্ত না করা: নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসের ড্রাফট সামনে আসার পর নানা রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক আপত্তি জানানো হয়েছিল। সীমানা পরিবর্তনের আগে প্রশাসনিক প্রতিনিধি পাঠিয়ে সরেজমিন পর্যালোচনা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের শুনানির দাবি উঠলেও পুর প্রশাসন তাতে কান দেয়নি বলে অভিযোগ। পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে চিঠি দিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।
  • সংরক্ষণ নীতি লঙ্ঘন: সংসদে পাস হওয়া ‘নগরপালিকা আইন’ অনুযায়ী মহিলা সংরক্ষণের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, পুরসভা ও রাজ্য নগরোন্নয়ন দপ্তর সেই আইনের তোয়াক্কাই করেনি। এমনকি কোনো কোনো ওয়ার্ডকে পর পর চারবার মহিলা সংরক্ষিত ঘোষণা করে নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে।
  • জনসংখ্যার বদলে ভোটার তালিকা: সিপিআইএম-এর কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদারের অভিযোগ, “নিয়ম মেনে জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি না করে কেবল ভোটার তালিকা দেখে ওয়ার্ড বিন্যাস করা হচ্ছে। ফলে মহানগরের প্রকৃত জনবিন্যাসের ছবি ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।”

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের তোপ: প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো রকম জনভিত্তিক স্পষ্টতা ছাড়াই পুরনো ১৪৪টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ২০৯টি করা হচ্ছে। নিয়মকানুন শিকেয় তুলে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে জোর করে পুরনিগম দখলের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তথা তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “সংবিধান মেনে সাবেক কাউন্সিলর, বিধায়ক ও সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির সাথে আলোচনার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। এই ড্রাফট কারা বানাল, কীভাবে বানাল—তা কেউ জানে না। পুরপ্রশাসক কারোর পরামর্শই শুনছেন না।”

পরবর্তী পদক্ষেপ: বর্তমানে পুরসভার প্রকাশিত তালিকাসমূহকে ‘খসড়া’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ২৮ বা ২৯ নভেম্বর ২০৯টি ওয়ার্ডে ভোট হতে পারে ধরে নিয়ে দলগুলি ময়দানে নামলেও, বাম-কংগ্রেস চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পুরসভার তরফে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করবে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরগুলি।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *