‘জনগণের রায়ই শিরোধার্য’, হার স্বীকার মহুয়ার!

‘জনগণের রায়ই শিরোধার্য’, হার স্বীকার মহুয়ার!

দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় ফিরছে বিজেপি। ২০২৬-এর এই বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে গেরুয়া শিবির, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলি থমকে গেছে মাত্র ৮১-তে। রাজ্যের এই ঐতিহাসিক পালাবদলকে ‘জনগণের রায়’ হিসেবে মাথা পেতে নিয়েছেন কৃষ্ণনগরের বিদায়ী সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলা যেহেতু বিজেপিকে বেছে নিয়েছে, তাই সেই ইচ্ছাকেই তাঁরা সম্মান করেন।

একই সঙ্গে মহুয়া মৈত্র তাঁর পোস্টে দলের প্রতিকূল লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার আস্ফালন নয়, বরং সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ রক্ষায় আগামী দিনেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

ভোটের হার ও রাজনৈতিক সমীকরণ

নির্বাচন কমিশনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আসনের ব্যবধানে বিজেপি অনেক এগিয়ে থাকলেও ভোটের হারের নিরিখে লড়াই ছিল বেশ সেয়ানে সেয়ানে। বিজেপি পেয়েছে ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট এবং তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৪০.৮০ শতাংশ। বাকি আসনগুলোর মধ্যে কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি দুটি করে এবং সিপিআই(এম) ও আইএসএফ একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে তৃণমূলের কার্যত ‘ওয়াশ আউট’ হওয়ার বিষয়টি শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে কাজ করেছে।

ভবানীপুরে বিপর্যয় ও উত্তর-নির্বাচনী পরিস্থিতি

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর খাসতালুক রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে তাঁকে পরাজিত করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ব্যক্তিগত হার দলের নৈতিক বলের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিকে ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। টালিগঞ্জ, বারুইপুর, কামারহাটি ও বেহালাসহ একাধিক জায়গায় তৃণমূলের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল নেতৃত্ব এই অশান্তির তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে “নর্দমার রাজনীতি” বলে আখ্যা দিয়েছে। ১৫ বছরের শাসনকাল শেষে এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে বাংলায় এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল এবং নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *