জনতার ক্ষোভ ও খামতি ঢাকতে ব্যর্থ তৃণমূল, ইডির জেরার মুখে রথীনের তাৎপর্যপূর্ণ স্বীকারোক্তি! – এবেলা

জনতার ক্ষোভ ও খামতি ঢাকতে ব্যর্থ তৃণমূল, ইডির জেরার মুখে রথীনের তাৎপর্যপূর্ণ স্বীকারোক্তি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)-এর তলবে অবশেষে হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার মুখে তাঁর মুখে শোনা গেল এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ স্বীকারোক্তি। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি এবং নেতাদের ওপর সাধারণ মানুষের একের পর এক হামলার ঘটনায় দলের অন্দরের খামতিকেই পরোক্ষভাবে দায়ী করেছেন তিনি।

জনতার ক্ষোভ ও রথীনের অকপট স্বীকারোক্তি

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদল তৃণমূলের আসন সংখ্যা এক ধাক্কায় ৮০-তে নেমে এসেছে। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে। সম্প্রতি সোনারপুরে আক্রান্ত হয়েছেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবিবার হামলার মুখে পড়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। জনমানসে তৈরি হওয়া এই তীব্র ক্ষোভ এবং দলের এই শোচনীয় পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রথীন ঘোষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “কোথায় খামতি তা বুঝতে পারলে অনেক কিছু হয়ে যেত। মানুষ চায়নি, তাই…। বিভিন্ন কারণে হয়নি।” নিজের দলের এই ব্যর্থতা নিয়ে অবশ্য এর চেয়ে বেশি বিশদ ব্যাখ্যা দিতে চাননি প্রাক্তন মন্ত্রী।

দলীয় কোন্দল ও তদন্তের চাপ

দলীয় বিপর্যয় এবং জনগণের ক্ষোভের মাঝেই রবিবার কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দলীয় সমন্বয়ের অভাব নাকি ক্ষোভ, তা স্পষ্ট না হলেও ৬০ জন বিধায়ক সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে বৈঠকটি বাতিল করতে বাধ্য হয় শীর্ষ নেতৃত্ব। নিজের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে রথীন ঘোষ অসুস্থতার দোহাই দিলেও, দলের সার্বিক পরিস্থিতি ঠিক আছে বলে দাবি করেন। এদিকে, সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার কিছু সময় আগেই রাজভবনে নতুন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়েছে। ইডির দফতরে ঢোকার মুখে নতুন মন্ত্রীদের শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়ে রথীন আশা প্রকাশ করেন, বিধায়ক হিসেবে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তিনি নতুন মন্ত্রীদের সহযোগিতা পাবেন।

এর আগে গত ১৫ মে ইডির তলবে হাজিরা দিলেও ২৫ মে নির্বাচনী ব্যস্ততা ও অন্যান্য কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছিলেন মধ্যমগ্রামের এই বিধায়ক। তবে সোমবার প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে তিনি ইডির মুখোমুখি হন এবং জানান, তদন্তের স্বার্থে যা চাওয়া হয়েছে তিনি তা জমা দিতে এসেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রথীন ঘোষের এই বয়ান শাসকদলের অন্দরের চরম সমন্বয়হীনতা এবং জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বাস্তব চিত্রটিকেই আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *