জার্মানিকে স্তব্ধ করে ইতিহাস ইকুয়েডরের, বিয়ার পানের পরামর্শ কোচের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বকাপের মঞ্চে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে এক নতুন ইতিহাস রচনা করল ইকুয়েডর। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ২-১ গোলের এই ঐতিহাসিক জয় ইকুয়েডরকে ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পৌঁছে দিয়েছে। সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেওয়া এই লাতিন আমেরিকার দলটি প্রমাণ করেছে, ফুটবলে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সঠিক কৌশল যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে পারে।
মাঠে অদম্য লড়াই ও রোমাঞ্চ
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য জার্মানির পক্ষেই ছিল। মাত্র ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের মাথায় লেরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় হুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। কিন্তু সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি ইকুয়েডর। ৯ মিনিটের মাথায় জার্মান রক্ষণভাগের ভুলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিলসন অ্যাঙ্গুলোর দূরপাল্লার শটে সমতায় ফেরে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানির একটি পেনাল্টি ‘ভার’ (VAR)-এর সিদ্ধান্তে বাতিল হলে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায়। এই ঘটনা ইকুয়েডরকে মানসিকভাবে আরও চাঙ্গা করে তোলে। জার্মানির মাঝমাঠকে নিষ্ক্রিয় করে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে ৭৭ মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার দ্বিতীয় গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা। ম্যানুয়েল ন্যুয়েরের দুর্দান্ত কিছু সেভ না থাকলে জার্মানির হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
ঐতিহাসিক জয়ের প্রভাব ও উচ্ছ্বাস
টুর্নামেন্টের শুরুতে আইভরি কোস্টের কাছে হার এবং কুরাসাওয়ের সঙ্গে ড্রয়ের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল ইকুয়েডর। কিন্তু খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এই জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে এখন চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। নকআউটে ওঠার এই সাফল্য দলটির মানসিকতায় ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, আগেই নকআউট নিশ্চিত করলেও এই হার জার্মানির জন্য পরবর্তী রাউন্ডের আগে বড় ধরনের একটি সতর্কবার্তা। ম্যাচের পর ইকুয়েডরের আর্জেন্তিনীয় কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেস আবেগাপ্লুত হয়ে গ্যালারিতে উঠে সমর্থকদের সঙ্গে উদ্যাপন করেন। আনন্দে আত্মহারা কোচ জানান, এটি বিশ্বকাপে দেশের সেরা জয় এবং এই আনন্দে মেতে উঠে সমর্থকদের এক গ্লাস বিয়ার পান করার পরামর্শ দেন তিনি। কঠিন সময়েও নিজেদের ফুটবল দর্শনে অবিচল থাকার সুফলই এখন উপভোগ করছে গোটা ইকুয়েডর।
