জাল সই কাণ্ডে তোলপাড় বিধানসভা, ঋতব্রত ও সন্দীপনের অভিযোগে অভিষেকের দুয়ারে সিআইডি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতিতে এবার এক নজিরবিহীন শোরগোল। তৃণমূলের অন্দরে জাল সই-কাণ্ডের তদন্তে নেমে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে গেল সিআইডি (CID)। গত সপ্তাহে একের পর এক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে সিআইডি হানার প্রকৃত কারণ সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেই স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় জমা দেওয়া বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের রেজোলিউশনে বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই মুহূর্তে তদন্তের পারদ চড়ছে।
ঋতব্রত ও সন্দীপনের অভিযোগের জের
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা প্রথম এই জাল সইয়ের বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের জন্য যে রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়েছিল, তাতে থাকা ১৪ জন বিধায়কের সই আসলে ব্লক লেটারে লেখা, যা কোনোভাবেই আসল সই হতে পারে না। এই অভিযোগ পাওয়ার পরই স্পিকারের নির্দেশে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন। পরবর্তীকালে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর নির্দেশে মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি।
তিন বিধায়কের স্বীকারোক্তি এবং সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্তে নেমে সিআইডি আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, অরূপ রায় সহ ১৩ জন তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেও নোটিস ধরানো হয়েছে। এই জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে দলের তিনজন বিধায়ক— বাহরুল ইসলাম, শুভাশিস দাস ও অরূপ রায় স্পষ্ট স্বীকার করে নিয়েছেন যে রেজোলিউশনে থাকা সইগুলো তাঁদের নয়। বিধায়ক বাহরুল ইসলাম এমনকি এও জানিয়েছেন যে সই করার দিন তিনি কলকাতাতেই ছিলেন না, নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
শাসক দলের বিধায়কদের এই স্বীকারোক্তির পর রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বহুগুণ বেড়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে তীব্র কটাক্ষ করে আইনি পথে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সই জালের এই ঘটনাটি প্রমাণিত হলে বিধানসভার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে অভিযুক্তদের বড়সড় আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে, যা আগামী দিনে শাসক শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
