জিও অউর জিনে দো: মমতা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বুধবার দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সম্প্রীতির এক অনন্য বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই তিনি উদ্বোধন করেন নবনির্মিত ‘জৈন মানস্তম্ভ’ এবং ‘সন্ত কুটিয়া গুরুদ্বার গেট’। ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে মানবিকতার রাজনীতির ওপর জোর দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেসের মূল মন্ত্রই হলো ‘জিও অউর জিনে দো’ অর্থাৎ নিজে বাঁচো এবং অন্যকেও বাঁচতে দাও।
কে হিন্দু আর কে মুসলিম আমি তা দেখি না
এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন। ‘এসআইআর’ (SIR) সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে তোপ দেগে তিনি বলেন, কাজের ক্ষেত্রে বা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় তিনি কখনও কারও ধর্ম বা জাতি বিচার করেন না। তার কথায়, “কে হিন্দু, কে মুসলিম আমি তা দেখি না। মানুষের সেবা করাই আমাদের প্রধান ধর্ম। বিভাজনের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই।”
জৈন সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ ট্রাস্ট ও জমির আশ্বাস
রাজ্যের জৈন সম্প্রদায়ের ভাবাবেগ এবং তাদের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, জৈন সম্প্রদায়ের উন্নয়নের স্বার্থে একটি বিশেষ ট্রাস্ট গঠন করা হোক। এই ট্রাস্ট পরিচালনার জন্য যদি জায়গার প্রয়োজন হয়, তবে রাজ্য সরকার জমি দিয়ে সাহায্য করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিটি ধর্মের মানুষের নিজস্ব ঐতিহ্য বজায় রাখার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং সরকার সেই অধিকারে সব সময় পাশে থাকবে।
উন্নয়ন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল রাজনৈতিক বার্তাই দেননি, বরং কলকাতার বুকে শিখ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্থাপত্যের প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। জৈন মানস্তম্ভ এবং গুরুদ্বার গেটের উদ্বোধনকে তিনি বাংলার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, বাংলা সবসময়ই সর্বধর্ম সমন্বয়ের পীঠস্থান এবং আজকের এই উদ্বোধন সেই ঐতিহ্যকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

