জিয়াগঞ্জে মধ্যরাতের উন্মাদনা, জয় শ্রীরাম ধ্বনির মাঝেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো লেনিন মূর্তি

জিয়াগঞ্জে মধ্যরাতের উন্মাদনা, জয় শ্রীরাম ধ্বনির মাঝেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো লেনিন মূর্তি

রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ। মঙ্গলবার রাতে বিপুল জয়ের উল্লাসের মাঝেই একদল উত্তেজিত জনতা আজিমগঞ্জ পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত বাম আমলের ভ্লাদিমির লেনিনের মূর্তিটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। জয় শ্রীরাম ধ্বনি আর উন্মাদনার মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

তীব্র আক্রোশ ও মূর্তির অবমাননা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিয়াগঞ্জের শ্রীপৎ সিং কলেজের সামনে অবস্থিত ওই লেনিন মূর্তিটি দীর্ঘদিনের। মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ হঠাৎই একদল মানুষ সেখানে জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভিড়ের মধ্যে থেকে মুহুর্মুহু স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। উত্তেজিত জনতা প্রথমে মূর্তির বেদিতে উঠে মূর্তির মাথার অংশটি ভেঙে ফেলে। এরপর আক্রোশ এতটাই বাড়ে যে, পুরো কাঠামোটিকেই বেদি থেকে উপড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। এই পুরো ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তার সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উত্তেজনার নেপথ্যে ও পরবর্তী প্রভাব

মুর্শিদাবাদে এবার বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছিল। জিয়াগঞ্জের এই ঘটনা সেই উত্তেজনারই চরম বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভাঙচুর চলাকালীন জনতা ওই স্থানে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ কিংবা ‘গোপাল পাঁঠা’র মূর্তি বসানোর দাবি তোলে। খবর পেয়ে জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনার ফলে এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে জিয়াগঞ্জ বর্তমানে থমথমে। পরবর্তী সংঘাত এড়াতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *