জেল থেকে ফিরেই কি রাজনীতির ময়দানে স্বমহিমায় ফিরছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
জেলমুক্তির পর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজপথে পা রাখলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এতদিন যে নাকতলার চার দেওয়ালের অন্দরে তিনি নিজেকে বন্দি রেখেছিলেন, শনিবার সেই চেনা গণ্ডি পেরিয়ে সোজা পৌঁছে গেলেন নিজের পুরনো দুর্গ বেহালা পশ্চিমে। তবে এবারের এই ফেরা কি কেবলই জনসংযোগ, নাকি রাজনীতির ময়দানে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত? তা নিয়ে ইতিমদেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।
বেহালা পশ্চিমের অলিগলিতে আজ ছিল অন্যরকম ব্যস্ততা। নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের মুখোমুখি হয়ে আবেগপ্রবণ দেখাল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে তিনি আজও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দায়বদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের খাসতালুকে জনসংযোগ বাড়িয়ে তিনি আসলে প্রমাণ করতে চাইলেন যে, কঠিন সময় পার করলেও জনভিত্তিতে এখনও চিড় ধরেনি।
তবে শুধু জনসংযোগই নয়, বর্তমান রাজ্য রাজনীতির অত্যন্ত চর্চিত বিষয় ‘ভাতা-রাজনীতি’ নিয়েও আজ মুখ খুলেছেন তিনি। আসন্ন ভোটের আবহে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও ভাতা প্রদান নিয়ে যখন শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে, তখন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ভাতা দেওয়ার প্রক্রিয়া রাজ্যে এই প্রথম নয়, এটি দীর্ঘদিনের দস্তুর। তবে একই সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞ সাংবাদিকসুলভ বিচক্ষণতায় তিনি যোগ করেন যে, সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানকে সবথেকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যে রাজনীতির অন্দরে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধছে। একদিকে তিনি যেমন সরকারের জনমুখী প্রকল্পের পক্ষে সওয়াল করলেন, তেমনই পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এক ভিন্ন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেন বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ কারাবাসের পর তাঁর এই সক্রিয়তা এবং স্পষ্টবক্তা মেজাজ আগামী দিনে বেহালার রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

