জৈষ্ঠ্যের শুরুতেই দহনজ্বালা, কলকাতায় পারদ ছুঁতে পারে ৪০ ডিগ্রি, উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বৈশাখের শেষে কালবৈশাখী আর নিম্নচাপের স্বস্তি কাটিয়ে জৈষ্ঠ্যের শুরুতেই স্বমহিমায় ফিরছে তীব্র গরম। মে মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে থাকলেও, চলতি সপ্তাহেই দক্ষিণবঙ্গে গরম ও অস্বস্তি দুই-ই চরম আকার ধারণ করতে চলেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির দেখা মেলা ভার, উল্টে হু হু করে বাড়বে দিনের তাপমাত্রা। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কলকাতার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণে চড়ছে পারদ, পশ্চিমে চরম অস্বস্তি
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে কলকাতার তাপমাত্রা আপাতত ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বহাল থাকবে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। তবে বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো কিছু জেলায় আগামী দু-দিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, তা গরমের তীব্রতা কমাতে পারবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদেরা।
উত্তরবঙ্গে উল্টো ছবি, ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
দক্ষিণবঙ্গ যখন তীব্র গরমে পুড়ছে, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সম্পূর্ণ বিপরীত আবহাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি—এই পাঁচ জেলায় আগামী তিন দিন বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বুধবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে এবং বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আরও এক দফায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
মৌসুমী বায়ুর আগমন এবং বায়ুমণ্ডলের স্থানীয় পরিবর্তনের জেরেই রাজ্যের দুই প্রান্তে এমন আবহাওয়ার বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে লাগাতার বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধস ও নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
