“জোর করে পদত্যাগপত্র সই!” ছাত্রবিক্ষোভের মুখে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের উপাধ্যক্ষের ইস্তফা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 11, 20266:34 pm
কলকাতা: তীব্র ছাত্রবিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে পড়ে অবশেষে পদত্যাগ করলেন শিয়ালদহের সুরেন্দ্রনাথ কলেজের উপাধ্যক্ষ। তবে কলেজ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার মুহূর্তে তিনি চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানান, তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়েননি; বরং চাপ সৃষ্টি করে তাঁর কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, উপাধ্যক্ষ ক্যাম্পাস ছাড়তেই উল্লাসে মেতে ওঠেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। গঙ্গাজল ছিটিয়ে এবং ধূপ জ্বালিয়ে রীতিমতো ‘শুদ্ধিকরণ’ চালিয়ে কলেজের ভেতরে উৎসব পালন করতে দেখা যায় তাঁদের।
ক্ষোভের কারণ ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ: কলেজে কম উপস্থিতির (অ্যাটেনডেন্স) অজুহাতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়া ঘিরেই এই অসন্তোষের সূচনা। শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগগুলো হলো:
- কলেজের প্রায় ৯৮ শতাংশ ছাত্রছাত্রীর নাম পরীক্ষার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
- নিয়মিত ক্লাসে আসা সত্ত্বেও ঠিকমতো উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হতো না। সাদা কাগজে সই নেওয়া হতো এবং নিয়মিত ক্লাসও চালানো হতো না।
- শাসকদলের ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি-র (TMCP) রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিলে তবেই খাতায় উপস্থিতি দেওয়ার সুযোগ মিলত বলে অভিযোগ তোলেন আন্দোলনের মুখেরা।
পরিচালন সমিতির ভূমিকা ও উপাধ্যক্ষের বক্তব্য: শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজের পরিচালন সমিতির নতুন সভাপতি কৌস্তভ বাগচী আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, এবার কোনো জরিমানা ছাড়াই সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হোক। অধ্যক্ষকে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানানো সত্ত্বেও পদত্যাগী উপাধ্যক্ষ তা মেনে নিতে অস্বীকার করেন।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ খণ্ডন করে বিদায়ী উপাধ্যক্ষ স্পষ্ট জানান, ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না থাকার কারণেই নিয়ম মেনে উপস্থিতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপাধ্যক্ষের পদত্যাগের পর এখন সব শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করার দাবি নিয়ে পরিচালন সমিতির সভাপতির দ্বারস্থ হচ্ছেন ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা।
