জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগের মাঝেও স্বস্তির খবর, ভারতের হাতে রয়েছে ৬০ দিনের তেল ও গ্যাসের বিশাল মজুত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পর সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, দেশে জ্বালানির কোনো তাৎক্ষণিক ঘাটতি নেই এবং আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপদ স্তরে জ্বালানি মজুত
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কাছে বর্তমানে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল ও সমপরিমাণ সময়ের প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রয়েছে। এছাড়া রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৪৫ দিনের এলপিজি ‘রোলিং স্টক’ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল।
আর্থিক সুরক্ষা ও সরকারি পদক্ষেপ
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম রিফাইনারি দেশ হিসেবে ভারত বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সরকারের হাতে থাকা ৭০৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার লোকসান দিচ্ছে। এর ফলে গত ৭০ দিনেরও বেশি সময় ধরে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা সম্ভব হয়েছে।
সংকটের কারণ ও আগামীর সতর্কতা
মূলত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক দেশে তেলের দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও ভারত এখনো সেই প্রভাব মুক্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ‘ন্যাশনাল মিশন’ চালু করেছে। জ্বালানি সাশ্রয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখতেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে একজোট হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের মতে, এই সচেতনতা বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক সংকট ভারতের অর্থনীতিতে বড় কোনো আঘাত হানতে পারবে না।
