জ্বালানি সংকট রুখতে মোদির নয়া নিদান, মোদিকে ‘গব্বর’ কটাক্ষে বিদ্ধ করলেন প্রকাশ রাজ

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ভারতে জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে কড়া সংযমের পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন। গত রবিবার তিনি পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি আগামী এক বছর বিদেশযাত্রা, জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে এবং সোনা কেনার পরিকল্পনায় রাশ টানার নির্দেশিকা জারি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহণ ব্যবহার করাই এখন প্রকৃত দেশপ্রেম। তবে সরকারের এই নতুন নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ।
সরকারের যুক্তি ও অর্থনীতির প্রেক্ষাপট
হায়দরাবাদের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে দায়িত্বশীল জীবনযাপন অপরিহার্য। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং সোনা কেনার প্রবণতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারের অস্থিরতা থেকে ভারতীয় মুদ্রাকে রক্ষা করা এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
প্রকাশ রাজের আক্রমণ ও জনরোষ
প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশিকার তীব্র সমালোচনা করে অভিনেতা প্রকাশ রাজ মোদি সরকারকে ‘ব্যর্থ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি কেন্দ্রের কর নীতিকে ‘গব্বর সিং’-এর আচরণের সঙ্গে তুলনা করে অভিযোগ করেন যে, সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে ধনকুবেরদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। অতীতে নোটবন্দি ও কোভিডের সময়কার পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি একে নতুন ‘জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় নেটনাগরিকদের একাংশ প্রকাশ রাজকে ‘কংগ্রেসের পুতুল’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। এই বিতর্কের ফলে জ্বালানি সাশ্রয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি এখন সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে, যার প্রভাব আসন্ন দিনগুলোতে অর্থনীতির ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
