জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে বড় পদক্ষেপ: চলতি বছরেই দেশে খুলবে ৫০০ ফ্লেক্স-ফুয়েল স্টেশন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ, দেশজুড়ে ৫০০ ফ্লেক্স-ফুয়েল স্টেশন খুলতে চলেছে কেন্দ্র
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জোগানের অনিশ্চয়তা কাটাতে কেন্দ্র এখন বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তিকে দেশের পরিবহণ খাতের ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক।
ফ্লেক্স-ফুয়েলে বিশেষ ভর্তুকির ভাবনা
ভারতের জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে ফ্রেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের জন্য সহায়ক নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির বিস্তারে জ্বালানির দামে ছাড় এবং নির্দিষ্ট ভর্তুকি প্রদানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ কেবল জ্বালানি আমদানিই কমাবে না, বরং ইথানলের চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকদের আয়ের নতুন পথ প্রশস্ত করবে এবং কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করবে। বর্তমানে ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৮.৫ শতাংশ তেল আমদানি করে, যা ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের সময় দেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
পরিবহণ পরিকাঠামোয় বড় লক্ষ্যমাত্রা
ফ্লেক্স-ফুয়েল চালিত যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত করতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সারা দেশে ৫০০টি ডিসপেনসিং স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্য স্থির করেছে কেন্দ্র। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধান শহরগুলোতে এই স্টেশনগুলো চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে পরিকাঠামো বিস্তার ঘটিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে এই স্টেশনের সংখ্যা ৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে ১.৮৪ লক্ষ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে এবং কৃষকরাও প্রত্যক্ষভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। পরিবেশ রক্ষা ও জ্বালানি সাশ্রয়ে এই প্রযুক্তি আগামী দিনে দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে।
