জ্বালানির পর এবার বিদ্যুতে কোপ, কম পুড়লেও পকেট খালি করবে ফিক্সড চার্জ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পেট্রোল, ডিজেল কিংবা সিএনজি—সব ধরনের জ্বালানির ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে এমনিতেই নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে রান্নার গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পর বিদ্যুৎ বিলও। দেশের মধ্যবিত্তের পকেটে নতুন করে টান মারতে এবার বিদ্যুতের মাসিক ফিক্সড চার্জ বা নির্ধারিত শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথারিটি (সিইএ)। এই প্রস্তাব যদি শেষ পর্যন্ত অনুমোদিত হয়, তবে গ্রাহক বিদ্যুৎ কম খরচ করলেও মাসের শেষে মোটা অঙ্কের বিল দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াবে।
কেন এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব?
বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থা বা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কো ম্পা নিগুলোর বর্তমান আর্থিক সংকটই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিস্ট্রিবিউশন কো ম্পা নিগুলো বর্তমানে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বহু গৃহস্থের বাড়িতে রুফটপ সোলার সিস্টেম বা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি বড় বড় শিল্পক্ষেত্রগুলোও গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব ‘ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশন’ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। এর ফলে বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থাগুলোর নিয়মিত রাজস্ব আদায়ে বড় ধস নেমেছে। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতেই এবার ফিক্সড মান্থলি চার্জ বৃদ্ধির পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
এই নতুন নিয়মের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের ওপর। এতদিন বিদ্যুৎ বিলের একটি বড় অংশ নির্ভর করত ঠিক কতটা ইউনিট বিদ্যুৎ পুড়ছে তার ওপর। কিন্তু নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বিলের একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে এই বাধ্যতামূলক ফিক্সড চার্জ। ফলে কোনো পরিবার যদি সাশ্রয় করার জন্য কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কিংবা দীর্ঘদিন বাড়ি বন্ধও থাকে, তাহলেও ওই নির্ধারিত মোটা অঙ্কের চার্জ দিতেই হবে। খুব শীঘ্রই এই প্রস্তাবনাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ফোরাম অব রেগুলেটরসের কাছে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে। এটি পাস হলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবার খরচ একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে।
