জ্বালাপোড়া গরম থেকে মিলছে নিস্তার, জামাইষষ্ঠী ও যোগ দিবসের উইকএন্ডে ভিজবে গোটা বাংলা! – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/03/21/imd-kolkata-2026-03-21-08-21-04.jpg)
এবেলা ডেস্কঃ
পূর্বাভাস মিলিয়ে অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও তীব্র দহনজ্বালা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন রাজ্যবাসী। এই সপ্তাহের শেষেই রয়েছে বাঙালির আবেগের উৎসব জামাইষষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। উৎসব ও বিশেষ উদযাপনের এই দিনগুলিতে আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল এখন তুঙ্গে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জামাইষষ্ঠী ও যোগ দিবসের পুরো উইকএন্ড জুড়েই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলায় বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বজ্রপাত, উত্তরবঙ্গে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা
জামাইষষ্ঠীর দিনে দক্ষিণবঙ্গের হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলার একাধিক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি প্রতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অবশিষ্ট জেলাগুলির কিছু কিছু এলাকাতেও ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। এই জেলাগুলির কিছু অংশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া মালদা এবং দুই দিনাজপুরে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রকৃতির এই বদলের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অক্ষরেখার কারণেই এই প্রাক-বর্ষাকালীন ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা তীব্র গরমকে প্রশমিত করতে সাহায্য করছে। এই বৃষ্টির ফলে সাধারণ মানুষ যেমন ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে স্বস্তি পাবেন, তেমনই জামাইষষ্ঠীর কেনাকাটা বা উৎসবের যাতায়াতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে নিচু এলাকায় জল জমা কিংবা যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় অতিভারী বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি ধস বা নদীর জলস্তর বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
