ঝাড়গ্রামে হাতি-মানুষের সংঘাত রুখতে আকাশে উড়বে থার্মাল ড্রোন! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে জঙ্গল থেকে আচমকাই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে হাতি। গভীর জঙ্গলে বা রাতের অন্ধকারে তাদের সঠিক অবস্থান বুঝতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে বন দপ্তরের ট্র্যাকিং। ফলে ঝাড়গ্রাম ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ক্রমশ বাড়ছে হাতি ও মানুষের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাত। নষ্ট হচ্ছে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল ও বাড়ি-ঘর। সম্প্রতি শিমুলডাঙার একটি কাজু বাগানে হাতির হানায় এক মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও ক্ষয়ক্ষতি রুখতেই এবার হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দ্বারস্থ হয়েছে বন দপ্তর।
অত্যাধুনিক থার্মাল ড্রোনের ব্যবহার
হাতির অবস্থান নির্ভুলভাবে ট্র্যাক করতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিশেষ থার্মাল ড্রোন কিনেছে বন দপ্তর। ইতিমধ্যেই বনকর্মীদের এই ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে। দৃশ্যমান আলোর পরিবর্তে হিট সেন্সর ও ইনফ্রারেড রশ্মির মাধ্যমে কাজ করে এই বিশেষ ড্রোন। রাতে বা ঘন জঙ্গলের অন্ধকারে বন্যপ্রাণীর শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় করে এর ক্যামেরা ৩৬০ ডিগ্রি কোণে নিখুঁত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতে সক্ষম। ভূমি থেকে ৯০ মিটার উঁচুতে উড়ে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকার ছবি তুলে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জায়গায় তথ্য পাঠাবে এই যন্ত্র। দিন কয়েক আগে বৃন্দাবনপুর এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই ড্রোন উড়িয়ে জঙ্গলে হাতির সঠিক অবস্থান ও সংখ্যা নির্ণয়ে বড়সড় সাফল্য পেয়েছেন বনকর্মীরা।
ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বহুমুখী পদক্ষেপ
হাতি-মানুষের এই ভয়াবহ সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ হল খাদ্যের সন্ধানে হাতির লোকালয়ে প্রবেশ। এই সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে অদূর ভবিষ্যতে প্রাণহানি ও কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। ড্রোন নজরদারির পাশাপাশি হাতির গতিবিধি নজরে রাখতে করিডরগুলিতে বসানো হয়েছে এআই ক্যামেরা। ঝাড়গ্রাম শহরকে সুরক্ষিত রাখতে পরিখা খননের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত পালস পাওয়ার ফেন্সিং বসানোর কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও হাতির লোকালয়মুখী প্রবণতা রুখতে জঙ্গলের গভীরে তাদের প্রিয় ফলগাছ রোপণের মতো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে বন দপ্তর, যা আগামীর বন্যপ্রাণ ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
