টানা ১০ বছর ভাত ও রুটি খাওয়া বন্ধ রাখলে শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে? ৩৪ বছর বয়সী তরুণীর অভিজ্ঞতায় চমকপ্রদ তথ্য – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমান সময়ে অনেক পুষ্টিবিদ এবং ডায়েটেশিয়ানরা সুস্থ থাকতে ভাত ও রুটি পুরোপুরি বর্জন করার পরামর্শ দিচ্ছেন। ঠিক এমনই এক জীবনযাত্রার উদাহরণ তৈরি করেছেন ৩৪ বছর বয়সী আকৃতি গোয়েল। বিটস পিলানি (BITS Pilani) থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে একটি স্টার্টআপে লিড হিসেবে কর্মরত থাকার পর, আকৃতি এখন পেশা বদলে চিকিৎসার পথে। নিট (NEET) পরীক্ষায় ১,১১৮ র্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি বর্তমানে হিন্দু রাও মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস (MBBS) পড়ছেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত আকৃতি গত ৩১ ডিসেম্বর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে গত ১০ বছর ধরে ভাত ও রুটি না খাওয়ার ফলে তাঁর শরীরে আসা আমূল পরিবর্তনগুলো তুলে ধরেছেন।
ভাত-রুটি ছেড়ে কেন মুগ ডালের ‘পেসারাত্তু’?
আকৃতি জানান, তাঁর পরিবারে দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে। বংশগত এই রোগের ঝুঁকি এড়াতেই তিনি আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার—ভাত ও রুটি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, চাল এবং আটার তৈরি খাবারে ‘হাই গ্লাইসেমিক কার্বোহাইড্রেট’ বা উচ্চ শর্করা থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
এর পরিবর্তে তিনি প্রোটিনের উৎস হিসেবে দক্ষিণ ভারতীয় খাবার ‘পেসারাত্তু’ বা মুগ ডালের চিলা গ্রহণ করা শুরু করেন। আকৃতির দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে তাঁর শরীরের শক্তির মাত্রা (Energy Levels) অভাবনীয়ভাবে বেড়ে গেছে এবং হজমপ্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।
বর্তমান স্বাস্থ্য সংকট ও তরুণ প্রজন্মের খাদ্যভ্যাস
আকৃতি সতর্ক করে বলেন, “বর্তমানে ভারতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগ প্রায় মহামারীর আকার ধারণ করেছে। এর প্রধান কারণ হলো তরুণ প্রজন্মের ভুল খাদ্যাভ্যাস।” তিনি গত ১০ বছর এই ত্যাগের সুফল পাচ্ছেন এবং দাবি করেছেন যে, ৩৪ বছর বয়সেও তিনি ২০ বছরের তরুণীর মতো প্রাণশক্তি অনুভব করেন।
‘ডায়াবেটিস রুখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত’
ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে আকৃতি বলেন, “গত ১০ বছর ধরে আমার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রুটি বা ভাত একেবারেই নেই। খুব বিরল কোনো উপলক্ষ ছাড়া আমি এগুলোর ধারেকাছে যাই না। এমনকি আমার বাড়িতে আটা বা চালের কোনো মজুতও রাখি না। গত দুই বছর ধরে আমি তরকারির সঙ্গে রুটির বিকল্প হিসেবে শুধুমাত্র মুগ ডালের চিলা বা পেসারাত্তু খাচ্ছি। এর পাশাপাশি সপ্তাহে পাঁচ দিন ওয়েট ট্রেনিং বা শরীরচর্চা করি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি অত্যন্ত সক্রিয় জীবনযাপন করি। আমার এমবিবিএস ব্যাচের ২০ বছর বয়সী সহপাঠীদের চেয়েও আমার এনার্জি লেভেল অনেক বেশি। টানা ১০ বছর ব্যায়াম করছি এবং ভাত-রুটি না খাওয়ার কারণে আমার মধ্যে কোনো রকম দুর্বলতা বা ক্লান্তি নেই। আমার পরিবারের প্রায় প্রত্যেকেরই ডায়াবেটিস আছে। আমি যাতে এই রোগের কবলে না পড়ি, সেই উদ্দেশ্যেই নিজের জীবনযাত্রায় এই পরিবর্তন এনেছি।”

