‘টোপ’ বিমান ও কেটারিং ট্রাক! ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাণরক্ষায় সিক্রেট সার্ভিসের রোমাঞ্চকর অপারেশন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের সাথে সামরিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও বিশ্বজুড়ে এখনও থমথমে উত্তেজনা বজায় রয়েছে। আর এই উত্তপ্ত আবহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি তুরস্ক সফরকালে নিজের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে বিমানবন্দরের একটি কেটারিং (খাবারের) ট্রাকে লুকিয়ে এক বিমান থেকে অন্য বিমানে যাতায়াত করতে হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।
আঙ্কারা বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল?
ন্যাটো (NATO) সম্মেলনে যোগ দিতে সম্প্রতি তুরস্কের আঙ্কারায় গিয়েছিলেন ট্রাম্প। কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে চেপে এটিই ছিল তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। কিন্তু সফর শেষে তুরস্ক ছাড়ার মুহূর্তে তৈরি হয় চরম নাটকীয়তা।
- গোপন বিমান বদল: সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমের নজর এড়াতে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে কাতারের দেওয়া বিমানে উঠতে দেখা গেলেও পর্দার আড়ালে ঘটে অন্য ঘটনা। বিমানবন্দরের একটি কেটারিং ট্রাকে করে অত্যন্ত গোপনে তাঁকে মার্কিন বিমানবাহিনীর ছোট সামরিক বিমান C-32A-তে সরিয়ে নেওয়া হয়।
- ‘ডেকয়’ বা টোপ বিমান: কাতারের উপহার দেওয়া বিমান এবং সাংবাদিকদের বহনকারী পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানটিকে মূলত ‘টোপ’ বা ডেকয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যাতে সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের বিভ্রান্ত করা যায়। নিরাপত্তার খাতিরে বিমানে থাকা সাংবাদিকদেরও জানালার শেড বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
- ব্রিটেনে অবতরণ ও ট্রাম্পের সাফাই: ওই ছোট সামরিক বিমানে করেই তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প এবং স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ ব্রিটেনের ‘আরএএফ মিলডেনহলে’ পৌঁছান। এর কিছুক্ষণ পর সাংবাদিকদের বহনকারী পুরোনো বিমানটিও সেখানে অবতরণ করে। পরবর্তীতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতেই তিনি সেই বিমানে ভ্রমণ করেছেন—যদিও আসল ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কেন এই নজিরবিহীন লুকোচুরি?
হোয়াইট হাউসের দাবি, কাতারের দেওয়া নতুন বিমানটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-আমেরিকা সংঘাত তখন চরমে ছিল এবং তুরস্কের সাথে ইরানের সীমান্ত থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করছিল সিআইএ ও সিক্রেট সার্ভিস।
নতুন বিমানটির সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আগে থেকেই কিছু প্রশ্ন থাকায়, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে চায়নি মার্কিন গোয়েন্দারা। আর সে কারণেই শেষ মুহূর্তে এই রোমাঞ্চকর গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। তবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
