‘ট্রাম্পকে বিশ্বাস নেই’, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর চরম হুঁশিয়ারি ইরানের; মধ্যপ্রাচ্যে কি ফের যুদ্ধের দামামা?

‘ট্রাম্পকে বিশ্বাস নেই’, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর চরম হুঁশিয়ারি ইরানের; মধ্যপ্রাচ্যে কি ফের যুদ্ধের দামামা?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার পরিবর্তে উত্তজনা এখন চরমে, যা দুই দেশকে আবারও যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে দূরপাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের হুমকি দিয়ে তেহরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে ইরান পিছু না হটে পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। তেহরানের সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

আস্থার সংকট ও সামরিক প্রস্তুতি

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ মোহাম্মদ জাফর আসাদি দাবি করেছেন, আমেরিকা আগের পারস্পরিক সমঝোতাগুলো লঙ্ঘন করছে। তাদের মতে, ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারে তেলের দামের পতন ঠেকানো এবং নিজেদের তৈরি করা সংকট থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসা। এদিকে, ইসরায়েলকে আমেরিকার বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সহায়তা প্রদান এবং ইরানের সীমান্তে ‘ডার্ক ইগল’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের খবরে তেহরান তাদের সামরিক বাহিনীকে ‘হাই অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।

প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও নেতৃত্বের বিভাজন

সম্প্রতি ইরানের দেওয়া একটি নতুন আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব রাজনৈতিকভাবে অসংগঠিত এবং একাধিক উপদলে বিভক্ত, যার ফলে কোনো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো আসাম্ভব হয়ে পড়ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে বর্তমান সংঘাত কার্যত শেষ, তবে ইরান বলছে আমেরিকা যেকোনো সময় ‘বোকামি’ করলে তারা কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও আস্থার অভাব মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • তেহরানের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • আমেরিকার ওপর কোনো আস্থা নেই বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সামরিক নেতারা।
  • মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ও ইসরায়েলকে বিপুল অস্ত্র দেওয়ায় যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে।
  • যেকোনো মার্কিন পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতে ইরানি সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক রাখা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *