ট্রাম্পকে শান্তির প্রস্তাব নাকি নতুন কূটনৈতিক চাল! পরমাণু ইস্যুতে ইরানের দ্বিমুখী কৌশলে তোলপাড় বিশ্বরাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির পথে হাঁটতে চাইছে তেহরান। সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আমেরিকার কাছে একটি ‘দ্বি-স্তরীয়’ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। এই অভিনব পরিকল্পনায় তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার আগে তারা আমেরিকার সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার চায়। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ বাণিজ্যিক চলাচল নিশ্চিত করতেই ইরান এই কৌশলী চাল চেলেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ইরানের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মতে, বর্তমানে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো একক সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই তারা প্রথম ধাপে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন অবরোধ সরানোর দাবি জানিয়েছে। এই ধাপটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে তবেই দ্বিতীয় পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসবে তেহরান। মূলত আলোচনার আগে নিজেদের বাণিজ্যিক পথ প্রশস্ত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ও তেলের বাজারে অস্থিরতা
ইরানের এই প্রস্তাবের বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সরাসরি আলোচনার জন্য কোনো দূত পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ইরানকে সরাসরি ফোন করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। ট্রাম্পের সাফ কথা, অন্তত ১০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ না করলে কোনো সমঝোতা হবে না। এদিকে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
রুশ সহযোগিতায় তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ
পাকিস্তান ও ওমানের পর ইরানের নজর এখন মস্কোর দিকে। সোমবার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে আরাগচির। রাশিয়ার সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতা ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়ানোর একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউস এখনও সরাসরি ইরানের প্রস্তাবে সম্মতি না দিলেও, ট্রাম্প ও খামেনেইর মধ্যকার সরাসরি যোগাযোগই এই জটিল যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
এক ঝলকে
- আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা কাটাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ‘দ্বি-স্তরীয়’ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান।
- আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার ও বাণিজ্যিক স্বাধীনতা দাবি করেছে ইরান।
- ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার প্রস্তাব নাকচ না করলেও সরাসরি ফোনে কথা বলার এবং ১০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের শর্ত দিয়েছেন।
- কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
