ট্রাম্পের AI ছবিতে রণক্ষেত্রের দৃশ্য! ইরানি রাষ্ট্রদূতের তোপ— ‘কূটনীতি এভাবে চলে না’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কারসাজি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন দফার কূটনীতি। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট করা এআই-জেনারেটেড ছবি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আচরণকে ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কূটনীতি এভাবে চলে না।
বিতর্কের মূলে ট্রাম্পের এআই পোস্ট
ঘটনার সূত্রপাত ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি জাহাজে দাঁড়িয়ে দূরবিন হাতে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন ট্রাম্প, আর দূরে সমুদ্রের বুকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায় সমুদ্রতলে ধ্বংস হয়ে পড়ে আছে ইরানের নৌবাহিনী। ক্যপশনে ইরানের নৌবাহিনীকে ‘ধরাশায়ী’ করার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প মূলত শক্তির আস্ফালন করতে চেয়েছেন। এই ছবিগুলোকে নিছক কল্পনাপ্রসূত ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান।
যুদ্ধের দামামা ও কূটনৈতিক অস্থিরতা
ইরানি রাষ্ট্রদূত এই ঘটনাকে ‘প্রতারণাপূর্ণ বিশ্বের বিপজ্জনক চিন্তাধারা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন, এ ধরনের কৃত্রিম ছবি প্রচার করে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। একদিকে যখন হোর্মুজ প্রণালী নিয়ে দুই দেশের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে, অন্যদিকে সিজফায়ার বা যুদ্ধবিরতির আলোচনার মাঝেই এই ধরনের উস্কানি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। ইরানের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ রেজা আরেফও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান খুব শীঘ্রই বড় ধরনের বিজয়ের উৎসব পালন করবে।
সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আস্থার সংকট তৈরি করছে। ট্রাম্পের এই পোস্ট ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বৈরিতাকে আরও উসকে দিতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে বৈশ্বিক তেলের বাজার ও হোর্মুজ প্রণালীর নিরাপত্তার ওপর। পেশাদার কূটনীতির পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কাদা ছোড়াছুড়ি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
