ট্রাম্পের নিশানায় কি এবার ভারত? সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ক্ষিপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন হুঁশিয়ারি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 25, 202612:34 pm
আমেরিকার বিদায়ী বা হবু প্রশাসনের বাণিজ্য নীতি নিয়ে ফের উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য এবং পদক্ষেপ ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মার্কিন Supreme \titleonly কোর্ট গত সপ্তাহে ট্রাম্পের আরোপিত গ্লোবাল ট্যারিফ বা বিশ্বজনীন শুল্ক বাতিলের রায় দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নিয়েছে। আদালতের এই রায়ে ভারতসহ অনেক দেশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, ট্রাম্পের পাল্টা হুঁশিয়ারি নতুন করে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্ট ও ভারতের উদ্বেগ
Supreme \titleonly কোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, যারা আদালতের এই রায়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকার সঙ্গে ‘গেম খেলতে’ চাইছে, তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে যারা দশকের পর দশক ধরে আমেরিকাকে বাণিজ্যিকভাবে ঠকিয়ে আসছে, তাদের ওপর আরও কঠোর এবং উচ্চহারে শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই বার্তার অন্যতম লক্ষ্য ভারত। কারণ, ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ইস্যুতে মার্কিন চাপের মুখে রয়েছে। ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিব্বল ট্রাম্পের এই মানসিকতাকে ‘অহংকারী’ বলে অভিহিত করেছেন।
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত
ব্লুমবার্গ এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে তার বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। মূলত মার্কিন Supreme \titleonly কোর্টের রায়ের পর যে আইনি ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই সিদ্ধান্ত।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছিল, যেখানে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার বদলে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার প্রস্তাব ছিল। বিনিময়ে আগামী পাঁচ বছরে ভারত প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনা
মার্কিন পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন উপদেষ্টা ইভান এ. ফিজেনবাউম ট্রাম্পের এই খামখেয়ালি আচরণের কিছু উদাহরণ তুলে ধরেছেন:
- কানাডা: অন্টারিওতে একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে রোনাল্ড রেগানকে উদ্ধৃত করার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প কানাডার ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দেন।
- সুইজারল্যান্ড: সুইস প্রেসিডেন্টের গলার স্বর পছন্দ না হওয়ায় সে দেশের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছিলেন তিনি।
- ব্রাজিল ও ভারত: রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে এই দেশগুলোর ওপর বারবার শুল্কের খাঁড়া নামিয়ে আনা হয়েছে।
মজার বিষয় হলো, ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ট্রাম্প সোচ্চার হলেও, চীনের বিরুদ্ধে তিনি ততটা কঠোর পদক্ষেপ নেননি, যদিও চীন ভারতের চেয়েও বেশি পরিমাণে রুশ তেল আমদানি করছে।
ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের অভিমত
ডব্লিউটিও-তে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত জয়ন্ত দাশগুপ্ত মনে করেন, আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে তা বোঝার জন্য ভারতের উচিত নিরন্তর আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরা মনে করেন, Supreme \titleonly কোর্টের রায়ের ফলে ভারত এখন আলোচনার টেবিলে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং নিজেদের শর্তে চুক্তি করার সুযোগ পেয়েছে।
Supreme \titleonly কোর্টের রায় এবং ট্রাম্পের সীমাবদ্ধতা
ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল তার নিজের নিযুক্ত কনজারভেটিভ বিচারপতিদের অবস্থান। এমনকি ট্রাম্পের মনোনীত দুজন বিচারপতিও এই ট্যারিফকে ‘বেআইনি’ বলে রায় দিয়েছেন। এর ফলে ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতার ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা যেখানে আইন বিভাগ ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার রুখে দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
মর্গান স্ট্যানলির রিপোর্ট অনুযায়ী, আদালতের এই রায়ের ফলে এশীয় দেশগুলোর গড় ট্যারিফ ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৭ শতাংশে নামতে পারে। অন্যদিকে, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ট্যারিফ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত বর্তমানে তার বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত সতর্ক। একদিকে যেমন ব্রাসিল ও অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করছে, অন্যদিকে আমেরিকার সাথে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সামনের দিনে ট্রাম্পের বেইজিং সফর এবং বিশ্ব বাণিজ্যের মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে দিল্লি।

