ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি ইরান ১০ দফা শর্তে ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে বৈঠক

পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনে এবার বড়সড় সাফল্যের ইঙ্গিত মিলল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতি জানাল ইরান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় তেহরান এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের শীর্ষ কর্তারা এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে মুখোমুখি হতে চলেছেন।
সূত্রের খবর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা আলি খামেনেই খোদ এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার পথ প্রশস্ত করতে ইরান পাল্টা ১০ দফা শর্ত পেশ করেছে। তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান হলো— ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বাজেয়াপ্ত হওয়া ইরানের যাবতীয় সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিপূর্বেই মার্কিন সেনাকে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। সহযোগী দেশ ইজরায়েলও এই মুহূর্তে কোনো সামরিক অভিযানে যাবে না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস বহনকারী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইরান এই শর্তে সরাসরি সায় না দিলেও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইরান আক্রান্ত না হলে তারাও কোনো পাল্টা হামলা চালাবে না। একইসঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে তারা চিন্তাভাবনা করছেন। তবে প্রণালীটি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত গ্যারান্টি দেয়নি তেহরান।
এই কূটনৈতিক রফায় শুধু পাকিস্তান নয়, পর্দার আড়াল থেকে চীনও ওয়াশিংটন ও তেহরানের ওপর যথেষ্ট চাপ তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। ইসলামাবাদের আসন্ন বৈঠকেই নির্ধারিত হবে ১০ দফা শর্তের জল কতদূর গড়ায়। বিশ্ব রাজনীতি এখন তাকিয়ে আছে শুক্রবারের সেই আলোচনার দিকে, যার ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরার সম্ভাবনা।
