ট্রাম্পের হাতে নতুন ক্ষমতা: রুশ তেল কেনায় ভারতের ওপর ১০০% শুল্কের খাঁড়া? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 17, 202611:25 am
ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)-এ পাস হলো এক নতুন কঠোর বিল। ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হওয়া ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ নামের এই বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের অপেক্ষায়। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর বড় ধরণের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা চলে আসবে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে।
বিলের মূল বক্তব্য ও কড়া পদক্ষেপ:
- ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক: রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০% পর্যন্ত শুল্ক বসাতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই তালিকায় সরাসরি নাম রয়েছে ভারত ও চীনের।
- শ্যাডো ফ্লিট ও ব্যাংকে কোপ: রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত গোপন ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাঙ্কার, গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক এবং শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কড়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- ইরানের ওপর চাপ: বিলটিতে রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ জোরদার করার বিধান রয়েছে।
ছাড় ও বিশেষ ব্যতিক্রম: আমেরিকান মিত্রদের স্বস্তি দিতে বিলে কিছু বিশেষ ছাড়ের পথ খোলা রাখা হয়েছে। যেসব দেশ রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা কমানোর দিকে এগোচ্ছে, তারা এই বাড়তি শুল্কের হাত থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। মূলত ইউরোপীয় মিত্রদের সুবিধা দিতেই এই শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
ভারতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব: ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ সস্তা অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত। নতুন আইন কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর আইনি সুযোগ পাবে আমেরিকা, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই শুল্ক অবিলম্বে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে না—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাস্তবে তা প্রয়োগ করবেন কি না, তা পুরোটাই তাঁর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন হাউসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের মধ্যেই বিলটি নিয়ে কিছুটা দ্বিমত ছিল। বিশেষ করে বিরোধীদের আশঙ্কা, এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ক্ষমতা চলে আসবে, যা আমেরিকান মিত্রদের বাণিজ্যিক স্বার্থও বিঘ্নিত করতে পারে।
