ট্রাম্পের হুঙ্কার আর ইরানি দ্বীপ দখলের ছক! যুদ্ধের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কি তবে ধ্বংস হবে মধ্যপ্রাচ্য – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
শান্তির আড়ালে যুদ্ধের দামামা! ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত এখন এক চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ক্যানসার’ হিসেবে অভিহিত করে তা পুরোপুরি নির্মূল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে তেহরান দাবি করেছে যে একটি প্রতিবেশী দেশের সহায়তায় তাদের দ্বীপে কবজা করার গোপন ছক কষছে শত্রুসেনা।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকির গালিবাফ জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছে ইরানি বাহিনী। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যে, যদি কোনো আঞ্চলিক দেশ এই ষড়যন্ত্রে মদত দেয়, তবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ওপর কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন হামলা চালানো হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পূর্ণ সতর্কতার কথা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মার্কিন সামরিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে এত বড় মাপের সেনা মোতায়েন করছে ওয়াশিংটন। উত্তর ক্যারোলিনা থেকে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২,০০০ অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকেও এগিয়ে আসছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল বহর। এর ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫৭ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
ট্রাম্পের সাফ কথা, পরমাণু শক্তিধর ইরান বিশ্বের জন্য এক বড় বিপদ এবং এই বিপদকে সমূলে বিনাশ করতেই তারা বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি দাবি করেছেন, আমেরিকা তাদের কোনো সামরিক লক্ষ্যই পূরণ করতে পারেনি। তেহরানে সরকার পরিবর্তনের যে চেষ্টা ওয়াশিংটন করেছিল, তাও ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শান্তি আলোচনার খবরের মাঝেই এই বিশাল রণপ্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে।

