ডাইনি অপবাদের বিষে নীল রায়গঞ্জ, বৃদ্ধার ওপর পৈশাচিক মধ্যযুগীয় বর্বরতা – এবেলা

ডাইনি অপবাদের বিষে নীল রায়গঞ্জ, বৃদ্ধার ওপর পৈশাচিক মধ্যযুগীয় বর্বরতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের চরম উন্নতির যুগেও সমাজ থেকে মুছে যায়নি কুসংস্কারের অন্ধকার। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ থানার কানাইপুর গ্রামে ডাইনি অপবাদে এক ৬৪ বছর বয়সী বিধবা বৃদ্ধার ওপর যে অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়েছে, তা সভ্য সমাজের শিরদাঁড়া দিয়ে হিমস্রোত বইয়ে দেওয়ার মতো। গ্রামের কিছু শিশুর অসুস্থতা ও এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হেমতাবাদের এক ওঝার নিদানই ডেকে আনে এই ভয়াবহ বিপর্যয়। বর্তমানে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই বৃদ্ধা।

ওঝার নিদান ও পৈশাচিক উন্মাদনা

অসুস্থতা সারাতে আধুনিক চিকিৎসার বদলে গ্রামের মাতব্বরেরা দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক তান্ত্রিক বা ওঝার। অভিযোগ, সেই ওঝাই গ্রামের ওই বৃদ্ধাকে ‘ডাইনি’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তাঁকে তিন দিন ধরে মল-মূত্র খাওয়ানোর নিদান দেয়। ওঝার কথাকে শিরোধার্য করে বৃহস্পতিবার রাতে উন্মত্ত জনতা বৃদ্ধার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁকে বিবস্ত্র করে, হাত-পা বেঁধে পিলারের সঙ্গে ঝুলিয়ে দফায় দফায় মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক মল-মূত্র খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

দশ বছর আগের পুনরাবৃত্তি ও প্রশাসনিক ভূমিকা

এই ঘটনার বীভৎসতা আরও প্রকট হয় যখন জানা যায় যে, ১০ বছর আগে এই একই পরিবারের কর্তাকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে মেরেছিল প্রতিবেশীরা। একই পরিবারের ওপর এক দশকের ব্যবধানে একই ধরণের পৈশাচিক আক্রমণ প্রশাসনের নজরদারি ও সচেতনতামূলক প্রচারের কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে গ্রামের একাংশের মধ্যে এই বর্বরতাকে ‘শুদ্ধিকরণ’ হিসেবে চালানোর মানসিকতা সামাজিক ব্যাধির গভীরতাকেই স্পষ্ট করে।

এক ঝলকে

ডাইনি অপবাদে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে ৬৪ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে বিবস্ত্র করে পৈশাচিক মারধর ও পিলারে ঝুলিয়ে অত্যাচার।

ওঝার নিদান মেনে বৃদ্ধাকে জোর করে মল-মূত্র খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে উন্মত্ত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে।

১০ বছর আগে একইভাবে ওই বৃদ্ধার স্বামীকেও ডাইনি অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল।

পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে, বর্তমানে বৃদ্ধা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *