ডাউন সিনড্রোম কি কোনো বাধা? জীবনের প্রথম ৫ বছরেই লুকিয়ে আছে শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চাবিকাঠি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক
একটি শিশুর জীবনের প্রথম ৫ বছর হলো তার আগামীর ভিত্তি তৈরির শ্রেষ্ঠ সময়। বিশেষ করে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
ডাউন সিনড্রোম আসলে কী?
এটি একটি জিনগত অবস্থা যেখানে শিশুর শরীরে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের একটি অতিরিক্ত কপি থাকে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ট্রাইসোমি ২১’। সাধারণ মানুষের শরীরে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকলেও ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি হয় ৪৭টি। এই একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোমই শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে কিছুটা ভিন্নতা তৈরি করে।
কেন প্রথম ৫ বছর সবচেয়ে জরুরি?
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ১,০০০ নবজাতকের মধ্যে একজন এই সিনড্রোম নিয়ে জন্মায়। চিকিৎসকদের মতে, জন্মের পর থেকে প্রথম পাঁচ বছর শিশুর মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশন সবচেয়ে দ্রুত গতিতে তৈরি হয়। ভাষা শেখা, চলাফেরা এবং চিন্তাশক্তির মূল ভিত্তি এই সময়েই গড়ে ওঠে।
আর্লি ইন্টারভেনশন বা দ্রুত পদক্ষেপ
ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের বিকাশের গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। তাই ‘ন্যাশনাল ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি’র মতে, সময় নষ্ট না করে শুরুতেই থেরাপি ও বিশেষ যত্নের মাধ্যমে শিশুর পাশে দাঁড়ানো উচিত। একেই বলা হয় আর্লি ইন্টারভেনশন।
- ফিজিওথেরাপি: পেশির দুর্বলতা কাটিয়ে শিশুকে বসতে বা হাঁটতে সাহায্য করে।
- স্পিচ থেরাপি: কথা বলা ও যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
- অকুপেশনাল থেরাপি: দৈনন্দিন কাজ নিজে হাতে করার সাহস ও স্বনির্ভরতা যোগায়।
ব্রেন প্লাস্টিসিটি ও সম্ভাবনা
শিশুর মস্তিষ্ক এই বয়সে নতুন কিছু শেখার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত থাকে, যাকে বলা হয় ‘ব্রেন প্লাস্টিসিটি’। নিয়মিত কথা বলা, খেলাধুলা এবং উদ্দীপনার মাধ্যমে তাদের শেখার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
তবে মনে রাখতে হবে, এই শিশুদের হৃদরোগ বা থাইরয়েডের মতো কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। তাই নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা পেলে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুরাও নিজেদের পৃথিবী নিজেদের মতো করে সুন্দর করে গড়ে তুলতে সক্ষম।

