ডাস্টবিনে বেজিংয়ের উপহার! ট্রাম্পের চীন সফরের পরই কেন সব ফেলে দিল আমেরিকা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর একটি নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। চিন সফর শেষ করে দেশে ফেরার আগে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সমস্ত সদস্য চিনের দেওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস, আইডি কার্ড, ব্যাজ, পিন এবং সমস্ত উপহার এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিচে রাখা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস সিকিউরিটি এবং সিক্রেট সার্ভিস অত্যন্ত কড়াকড়ির সাথে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছে, যেখানে কোনো কর্মকর্তা বা স্টাফকে ছাড় দেওয়া হয়নি। এমনকি স্টাফ এবং সাংবাদিকদের দেওয়া চিনা ফোনও বিমানে ওঠার আগে ফেলে দেওয়া হয়।
কড়া নজরদারি এড়াতে বিশেষ প্রোটোকল
চিন বা রাশিয়ার মতো দেশগুলোতে সফরের সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স প্রোটোকল মেনে চলে। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, পুরো ঘটনাটি ক্যামেরার সামনে ঘটেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের নিজস্ব ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি; বরং ফিরতি ফ্লাইটে ডিজিটাল নজরদারি ও সিগন্যাল ট্র্যাকিং এড়াতে সেগুলো বিশেষ ‘ফ্যারাডে ব্যাগে’ রাখা হয়েছিল। টেসলা প্রধান এলন মাস্ক এবং এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং-এর মতো হেভিওয়েট শিল্পপতিরা এই প্রতিনিধি দলে থাকা সত্ত্বেও কাউকেই চিনের তৈরি কোনো সামগ্রী বিমানে তোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
কূটনৈতিক হাসির আড়ালে গভীর অবিশ্বাস
এই ঘটনার মাধ্যমে আমেরিকা ও চিনের মধ্যকার গভীর কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত অবিশ্বাসের বিষয়টি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। সফরে দুই রাষ্ট্রপ্রধানকে একসাথে নৈশভোজ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করতে দেখা গেলেও, বিদায়বেলার এই নিরাপত্তা পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ফাটল অপরিবর্তিত রয়েছে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চিনের গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্তব্য করেছেন যে, দুই দেশই একে অপরের ওপর নজরদারি চালায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিনা উপহার এভাবে প্রকাশ্যে বর্জন করা কেবল একটি নিরাপত্তা প্রক্রিয়া নয়, বরং বেইজিংয়ের প্রতি ওয়াশিংটনের একটি সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর কৌশলগত বার্তা।
